মীমাংসা চেয়েছিলেন মাদ্রাসাশিক্ষক, রাজি হননি মা

আপডেট: October 22, 2026 |
opurbo 1
print news

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগে সাঈদ হোসেন ওরফে নান্নু (৪২) নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে শিশুটির মা তাতে রাজি হননি।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে সাঈদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার সাঈদ হোসেন উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের দারুল আবরার মাদ্রাসার শিক্ষক এবং মৃত আফফান ডাক্তারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ১৪ অক্টোবর বেলা ২টার দিকে একটি প্রতিযোগিতা উপলক্ষে মাদ্রাসায় অতিরিক্ত ক্লাস চলছিল। এ সময় শিক্ষক সাঈদ হোসেন কৌশলে শিশুটিকে মাদ্রাসার অফিসকক্ষে ডেকে নিয়ে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দেন। পরে তাঁকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে তার সহপাঠী ও স্থানীয় কয়েকজন নারী এগিয়ে আসেন। তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক জুব্বা ও পায়জামা হাতে নিয়ে অফিসকক্ষ থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে শিশুটি উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে ঘটনার বিবরণ দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে শিশুটির মা তাতে রাজি হননি। পরে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তিনি দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, একটি প্রতিযোগিতা উপলক্ষে মাদ্রাসায় অতিরিক্ত ক্লাস চলছিল। অন্য শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর ওই শিশুকে আটকে রেখে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে শিশুটির মা থানায় অভিযোগ দিলে মামলা নথিভুক্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Share Now