মান্দায় দুই হাটের পৌনে ১৯ লাখ টাকার উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: October 20, 2026 |
print news

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলায় দুটি হাটের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র কাজ করে প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।

এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দুই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকৌশলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অনুন্নত হাটের উন্নয়নের জন্য প্রাপ্ত ১০ শতাংশ তহবিল থেকে মান্দা উপজেলার মৈনম ও কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের হাটবাজার উন্নয়নে ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬২ টাকা করে মোট ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৭২৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

গত ৯ জুলাই উপজেলা হাটবাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় মৈনম ইউনিয়নে চারটি এবং কাঁশোপাড়া ইউনিয়নে পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।

অনুমোদিত প্রকল্প অনুযায়ী, মৈনম হাটে স্ট্রিট লাইট মেরামত ও স্থাপনের জন্য ৩ লাখ টাকা, দুটি সেড নির্মাণে ৬ লাখ টাকা এবং অভ্যন্তরীণ নালা ও আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য ৩৫ হাজার ৮৬২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের সিংগীহাটে টয়লেট ও প্রস্রাবখানা নির্মাণে ২ লাখ টাকা, সিংগীহাট থেকে ফকিরপাড়া গ্রামের দুটি সড়ক নির্মাণে ৪ লাখ টাকা, স্ট্রিট লাইট মেরামত ও স্থাপনে ৩ লাখ টাকা এবং নালা পরিষ্কারের জন্য ৩৫ হাজার ৮৬২ টাকা বরাদ্দ করা হয়।

সরেজমিনে মৈনম হাট ঘুরে দেখা যায়, সেখানে আটটি খুঁটির ওপর একটি সেড নির্মাণ করা হয়েছে এবং দুটি নতুন স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় অন্য কোনো দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ চোখে পড়েনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা দাবি করেন, দৃশ্যমান সেড নির্মাণ ও স্ট্রিট লাইট স্থাপনে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে।

বাকি অর্থ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে তাঁর এ দাবির পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে মৈনম ইউনিয়নের প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য সুদেব চন্দ্র বলেন, “প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। শুধু কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে চেয়ারম্যান আমাকে ৩ হাজার টাকা দিয়েছেন।”

একই ধরনের অভিযোগ করেন অপর প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, প্রকল্পের সভাপতি করায় তাঁকে ৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের সিংগীহাটে সরেজমিনে একটি টয়লেট ও প্রস্রাবখানা নির্মাণ, দুটি স্ট্রিট লাইট স্থাপন এবং গ্রামের ভেতরে নিম্নমানের ইট দিয়ে একটি সড়ক নির্মাণের চিত্র দেখা গেছে। হাটের উন্নয়নের বরাদ্দ দিয়ে গ্রামের ভেতরে সড়ক নির্মাণ এবং নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মৈনম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান ও কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বলেন, হাট দুটির উন্নয়নকাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

Share Now