সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৬ ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন

দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল কেনার একটি প্রস্তাবসহ ১,৫৯০ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় ৬ ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় ক্রয় প্রস্তাবগুলোতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রি পরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন।

তিনি বলেন, “আজকে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র ৩১তম এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র ৩৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থনৈতিক মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য দুটি এবং ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ৭টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।

ক্রয় কমিটির প্রস্তাবের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৪টি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি, বিদ্যুৎ বিভাগের একটি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব ছিল। সরকারি ক্রয় কমিটি একটি প্রস্তাব ফেরত পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। ক্রয় কমিটির অনুমোদিত ৬টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ১,৫৯০ কোটি ৩৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১৬ টাকা।”

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘‘নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর, ২০২১ সময়ের জন্য জি-টু-জি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৮০ হাজার মেট্রিক টন হাই সালফার ফার্নেস অয়েল আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রস্তাবটি গত ২২ সেপ্টেম্বর তারিখের সিসিইএ সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। প্রস্তাবিত ৮০ হাজার মেট্রিক টন (১০%+) হাই সালফার ফার্নেস অয়েল আমদানির জন্য জি-টু-জি সরবরাহকারী ৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছে কোটেশন আহ্বান করা হলে তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে।

‘দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর ভিত্তিক ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন (১০%+) হাই সালফার ফার্নেস অয়েল মার্কিন ডলার ৪ কোটি ২৬ লক্ষ ৫ হাজার ৬০০ সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৬৫ কোটি ১৩ লাখ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন হাই সালফার ফার্নেস অয়েলের দাম পড়বে ৫০২.০৮ মার্কিন ডলার।”

সভায় নরসিংদীর ঘোড়াশাল চতুর্থ ইউনিট রি-পাওয়ার্ড কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস টারবাইন এবং গ্যাস টারবাইন জেনারেটর অংশের খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণের মালামাল ক্রয়ের জন্য সরাসরি ক্রয়ের একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। কমিটি প্রস্তাবটি ফেরত পাঠিয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন শেষে পরে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

সভায় চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড-এর জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন (+৫%) ফসফরিক এসিড আমদানির একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ১০ হাজার মেট্রিক টন (+৫%) ফসফরিক এসিড আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক উম্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে দুটি দরপত্র জমা পড়ে যা রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান (১) মেসার্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনপুট, ঢাকা (প্রধান সরবরাহকারী মেসার্স সান ইন্টারন্যাশনাল এফজেডই,ইউএই) এই ফসফরিক এসিড সরবরাহ করবে।

এ জন্য সর্বমোট ব্যয় হবে ৭২ লাখ ৯ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬১ কোটি ৪৫ লাখ ৬৭ হাজার ২৫০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড এর দাম ৭২০.৯০ মার্কিন ডলার।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘২০২১-২০২২ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে সৌদি বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (সাবিক) সৌদি আরব থেকে নবম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন (১০%+) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এতে প্রতি মেট্রিক টন ৭৫৮.৩৩ মার্কিন ডলার হিসেবে সর্বমোট ব্যয় হবে ২ কোটি ২৭ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৬ হাজার ৪৩০ টাকা।’

সভায়, রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড, ইউএই থেকে চতুর্থ লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন (১০%+) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সংস্থাটির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী সারের দাম নির্ধারণ করে প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সার ৭৫৮.৩৩ মার্কিন ডলার হিসেবে ৩০ হাজার মেট্রিক টন (১০%+) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদনিতে মোট ২ কোটি ২৭ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৬ হাজার ৪৩০ টাকা ব্যয় হবে।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতার থেকে অষ্টম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন (১০%+) ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। চুক্তি অনুযায়ী সারের দাম নির্ধারণ করে প্রতি মেট্রিক টন ৭৬৯.৩৩ মার্কিন ডলার হিসেবে মোট ব্যয় হবে ২ কোটি ৩০ লাখ ৭৯ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯৭ কোটি ৭৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪৩০ টাকা।’

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) কর্তৃক ‘বিএফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্পের প্যাকেজ নং-ডব্লিউডি-১ এর পূর্ত কাজ ক্রয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) কর্তৃক বিএফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্পের পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য উম্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। তার মধ্যে একটি দরপত্র কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়।

‘দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত একমাত্র রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিশ্বাস ট্রেডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এ জন্য ব্যয় হবে ২৭৪ কোটি ৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৬৬ টাকা। তবে জানা গেছে, দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ননরেসপনসিভ ঘোষিত মেসার্স মজিদ অ্যান্ড সন্স কনস্ট্রাকশন লি. এর উদ্বৃত দরের চেয়ে সুপারিশকৃত প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত দর ১৮ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা বেশি।

বৈশাখী নিউজ/ ইডি