সমবায় সমিতির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে : তাজুল ইসলাম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, সমবায় ব্যবস্থাপনাকে মর্যাদার আসনে নিতে হলে দেশের সকল সমবায় সমিতির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দর্শন ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ বাস্তবায়ন করে গ্রামীণ জনপদের ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তাজুল ইসলাম আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমবায় অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘ বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ের উন্নয়ন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত ৫০তম জাতীয় সমবায় দিবস এবং জাতীয় সমবায় পুরস্কার-২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক ড. মো. হারুনুর রশিদ ও বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি শেখ নাদির হোসেন লিপু।

তাজুল ইসলাম বলেন, সমবায় ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হলে সমবায়ের দুর্বলতা ও অসামঞ্জস্যতা খুঁজে বের করতে হবে। প্রয়োজনে আইনে সংশোধনী আনতে হলে সেটাও করতে হবে।

সমবায়ের সুফল কাজে লাগিয়ে দেশের ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু সমবায় ব্যবস্থাপনায় নয়, সকল প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যক্তি পর্যায়েও মানুষের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। তাহলে কাজের পরিধি ও মান বাড়বে।

মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতার পর দেশ গঠনের লক্ষ্যে অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, যার মধ্যে অন্যতম একটি সমবায় ব্যবস্থাপনা। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন, গ্রামীন মানুষের জীবন- জীবিকার উন্নয়ন করে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সমবায়ের বিকল্প নেই।

তিনি আরো বলেন, গ্রামীন অবকাঠামো পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করতে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ সহ অনেক মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যার বেশির ভাগেরই বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন গ্রামভিত্তিক সমবায়ের মাধ্যমে সম্মিলিতি উদ্যোগকে জনগণের উন্নয়নে কাজে লাগাতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অনুরূপভাবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিদের জীবনমান উন্নয়নে সমবায়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর গণমূখী সমবায় ভাবনার আলোকে ‘বঙ্গবন্ধু মডেল গ্রাম প্রতিষ্ঠা’ পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো, শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেয়া। প্রকল্পটি দেশের ৭টি বিভাগের ৯টি জেলার ১০ টি গ্রামে পাইলটিং ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে।

এ বছর ১০ টি ক্যাটাগরিতে ৮টি সমবায় সমিতি এবং দুই জনকে ব্যক্তি পর্যায়ে জাতীয় সমবায় পুরস্কার-২০২০ প্রদান করা হয়। -বাসস

বৈশাখী নিউজ/ ইডি