অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টেও হারলো ইংল্যান্ড

এবারের অ্যাশেজে ম্রিয়মাণ ইংল্যান্ড, চলছে অজি দাপট। ব্রিজবেনের গ্যাবায় অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার সামনে প্রতিরোধই গড়তে পারেনি সফরকারীরা। সাড়ে তিন দিনেই তারা হেরে যায় ৯ উইকেটের ব্যবধানে। এবার অ্যাডিলেডে আরও একটা বড় পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেতে হল জো রুট বাহিনীকে।

অ্যাডিলেড ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডকে ২৭৫ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

স্বাগতিকদের ছুঁড়ে দেয়া ৪৬৮ রানের বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সোমবার ১৯২ রানেই অলআউট হয়েছে অতিথিরা। পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ফিফটি হাঁকাতে পারেননি ইংলিশদের কোন ব্যাটসম্যানই। সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন লেট অর্ডার ক্রিস ওকস। জাই রিচার্ডসনের শিকার হওয়ার আগে ৯৭ বলে ৭টি বাউন্ডারিতে ওই রান করেন ইংলিশ অলরাউন্ডার।

৯৫ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার ররি বার্নস। এছাড়াও জস বাটলার এবং রুটের ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে ২৬ ও ২৪ রান। যদিও ২৬ রানের ওই ইনিংস খেলার পথে ২০৭টি বল মোকাবেলা করে লড়াইয়ের একটা জোরালো প্রচেষ্টা চালান ইংলিশ উইকেটকিপার ব্যাটার।

তবে অজি পেসার জাই রিচার্ডসনের কাছে ইংলিশদের সব প্রতিরোধই যেন ভেঙে পড়ে সময়ের ব্যবধানে। স্বাগতিকদের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল এই পেসার ৪২ রানের বিনিমেয়ে শিকার করেন ৫টি উইকেট। যা এই ২৫ বছর বয়সীর ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট দখল। এছাড়া মিচেল স্টার্ক এবং নাথান লায়ন নিয়েছেন সমান দুটি করে উইকেট।

এর আগে মার্নাস লাবুশানে ও ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাটে চড়ে ৪৭৩ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। ১০৩ রান করেন লাবুশান। বাঁহাতি ওপেনার এবং মারকুটে ব্যাটসম্যান ওয়ার্নারের ব্যাট থেকে আসে ৯৫ রান। বেন স্টোকস নেন ৩ উইকেট।

জবাব দিতে নেমে স্টার্ক ও লায়নের তোপের মুখে পড়ে ২৩৬ রানে গুটিয়ে যায় ইংলিশরা। ডেভিড মালান খেলেন ৮০ রানের ইনিংস। অধিনায়ক রুট করেন ৬২ রান। ৩৭ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নেন স্টার্ক। লায়নের শিকার ৩ উইকেট।

পরে ২৩৭ রানে এগিয়ে থেকে জোড়া ফিফটিতে ৯ উইকেটে ২৩০ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংসও ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। লাবুশানে ও ট্রাভিস হেড করেন সমান ৫১ রান। দুটি করে উইকেট নেন ওলিয়ে রবিনসন, রুট এবং মালান। শতক ও ফিফটিতে ১৫৪ রান করা মার্নাস লাবুশানেই হন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।

চলতি আশেজ সিরিজে দুই দলের মধ্যকার তৃতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে মেলবোর্নে, আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে। এই টেস্ট ম্যাচসহ পরের দুটি ম্যাচের জন্যও ইতোমধ্যেই একই দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে, দুর্দশাগ্রস্ত ইংল্যান্ড শিবিরে আসতে পারে পরিবর্তন।

বৈশাখী নিউজ/ জেপা