সবে শুরু, আরও দেশে হামলা চালাবে রাশিয়া: জেলেনস্কি

কৃষ্ণ সাগরে ডুবে যাওয়া রুশ যুদ্ধ জাহাজের হতাহতের বিষয়ে মুখ খুলেছে রাশিয়া। স্বীকারোক্তি দিয়েছে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে। সেই সঙ্গে পশ্চিমাদের প্রতি বিশেষ বার্তাও পাঠিয়েছে।

আর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউরোপের আরও দেশ দখলে নিতে ইউক্রেন হামলা রাশিয়ার মহাপরিকল্পনার শুরু মাত্র।

তবে সেই সঙ্গে তিনি পরিস্কার হুশিয়ারী দিয়ে বলেছেন, এই যুদ্ধে শিগগিরই ইউক্রেনের জয় হবে। তিনি বলেন, নিজেদের রক্ষায় তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।

এদিকে, মারিউপোলে আটকে পড়াদের উদ্ধারের বিষয়ে শঙ্কাও জানিয়েছে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, আটকে পড়াদের ভবিষ্যত নির্ভর করছে পুতিনের ইচ্ছা ওপর।

প্রথমবারের মতো ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজের ক্রুদের ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করলো রাশিয়া। বলছে, মসকোভার একজন ক্রু মারা গেছেন। আর ২৭ জন এখনো নিখোঁজ আছেন।

এরমধ্যে আবার রুশ গণমাধ্যম বলছে, রণক্ষেত্রে ইউক্রেন সেনাবাহিনীকে সহায়তা করছে ব্রিটিশ এলিট ফোর্সের সাবোটাজ বিশেষজ্ঞ সেনারা।

মূলত পশ্চিমের লভিভে ব্রিটিশ সেনারা যুদ্ধ করছে বলে জানানো হয়েছে। রিয়া নোভোস্তি সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, এসএএস এর অন্তত ২০ সেনা মোতায়েন আছে লভিভে।

আর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, রাশিয়ার এই আগ্রাসন বড় কোনো পরিকল্পনা শুরু মাত্র। এরপর তারা ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে হামলা করবে।

জেলেনস্কি বলেন, আমি আগেও বহুবার বলেছি, ইউক্রেনে রাশিয়ার এই হামলা একটা শুরু মাত্র। এখন সেটাই প্রমাণিত হলো। ইউক্রেনের পর তারা অন্যান্য দেশগুলোও দখল করতে চায়।

শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত রাশিয়ার আশা আমরা পূরণ হতে দেব না। তবে আমাদের মতো আরো যারা হুমকিতে আছে, তাদের উচিত এই লড়াইয়ে সামিল হওয়া এবং আমাদের সহায়তা করা।

একদিন আগেই রুশ সেনা কর্মকর্তা বলেছিলেন, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চল জয় করে মলডোভা যাওয়ার পথ তৈরি করবে রাশিয়া। এরপরই রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে মলডোভা।

রণক্ষেত্রে যাই ঘটুক শিগগিরি এই যুদ্ধে ইউক্রেনের জয় হবে। এমন আশাবাদ জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শিমহাল।

তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত এই যুদ্ধে আমাদেরই জয় হবে। আর এই বিজয় আসবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই।

এদিকে, রাশিয়া মারিউপোল দখলের ঘোষণা দেয়ার পর সংকট দেখা দিয়েছে উদ্ধার তৎপরতায়। এখনো আটকে আছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ।

জাতিসংঘের সহায়তা ছাড়া, এসব মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের উপ প্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেশচুক।

জাতিসংঘ বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হয়েছে। এ যুদ্ধকে নাগরিকদের ‘অধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে সংস্থাটির মানবাধিকার দপ্তর।

বৈশাখী নিউজ/ বিসি