কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার সামরিক ডলফিন মোতায়েন

কৃষ্ণসাগরে নিজেদের সামরিক ঘাঁটিকে ইউক্রেনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এর আশেপাশে প্রশিক্ষিত ডলফিন মোতায়েন করেছে রাশিয়া। এমনটাই দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষিয়টির সঙ্গে একমত স্যাটেলাইট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সারও।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) মার্কিন নেভাল ইন্সটিটিউট জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেন আক্রমণের শুরুর দিকে ডলফিনগুলো ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল নৌঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়।

মার্কিন নেভাল ইন্সটিটিউতের সাবমেরিন বিশ্লেষক এইচ আই সাটন বলেন, রাশিয়ান যুদ্ধজাহাজে হামলার উদ্দেশ্যে বন্দরে প্রবেশকারী ইউক্রেনীয় ডুবুরিদের মোকাবেলা করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়া।

তার এ বিশ্লেষণের সাথে একমত পোষণ করে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সার জানিয়েছে, তাদের স্যাটেলাইটে তোলা সেভাস্তোপল বন্দরের সাম্প্রতিক ছবি থেকে ডলফিন মোতায়েনের ঘটনা সত্য বলেই মনে হচ্ছে।

সেভাস্তোপল বন্দর ব্যবহার করে সোভিয়েত আমলে রাশিয়া সামরিক উদ্দেশ্যে ডলফিনদের প্রশিক্ষন দিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে ২০১৪ সালে এই বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর আবারও সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করে রাশিয়া।

তবে ডলফিনই একমাত্র সামুদ্রিক প্রাণী নয় যাদেরকে রাশিয়া সামরিক উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে নরওয়ে উপকূলের কাছে একটি তিমি দেখেও ধারণা করা হয়, সেটি রাশিয়ান নৌবাহিনী কর্তৃক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

ক্রিমিয়ার দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত সেভাস্তোপল বন্দরে বেশ কিছু রাশিয়ান যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। রাশিয়ান সেনাবাহিনীর জন্য এই বন্দর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, এ মাসেই ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার মস্কোভা যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়, যা ছিল রাশিয়ান নৌবাহিনীর জন্য বড় ধাক্কা।

বৈশাখী নিউজ/ ইডি