টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

মৌলভীবাজারে মধ্য রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে মৌলভীবাজার জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। শহরের কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে বসতঘর সবজির জমি।

শুক্রবার (১৭ জুন) সকাল থেকেই শহরের কয়েকটি এলাকা বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন শহরের বসবাসকারী মানুষ। বৃষ্টির কারণে তলিয়ে গেছে শহরের কুসুমবাগ, পশ্চিমবাজার, পুরাতন হাসপাতাল রোড, আরামবাগ, দ্বারকসহ বিভিন্ন এলাকা। অতিবৃষ্টির কারণে শহরের জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে এখন পানি। বৃষ্টির পানি হাওর গুলোতে জমে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

অতিবৃষ্টির কারণে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। তবে মৌলভীবাজার জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা মনু ও ধলাই নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও নদী ভাঙনের খবর পাওয়া যায়নি।

মৌলভীবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল হামিদ মাহবুবের বাসা প্লাবিত হওয়ার ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। এতে দেখা গেছে তার ঘরে পানি ঢুকেছে।

শহরের বাসিন্দা সরকারি চাকরিজীবী ফখরুল ইসলাম জানান, তার বাসায় পানি ঢুকে সব আসবাবপত্র ডুবে গেছে। বাসার সব রুমে এখন পানি আর পানি।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল, কাগাবালা ও খলিলপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্ৰামগুলো পানিতে ডুবে গেছে।

মৌলভীবাজার সদরের আমতৈল গ্রামের বাসিন্দা মৌলা মিয়া বলেন, বৃষ্টির পানিতে তার সবজির বাগান ভেসে গেছে। শিমসহ বিভিন্ন ফসল ডুবে গেছে। ঘরের উঠানে পানি। আর কিছু বৃষ্টি হলে ঘরে পানি উঠবে।

কুলাউড়া উপজেলা থেকে সুমন আহমদ বলেন, ভারি বর্ষণ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এলাকাজুড়ে অতি বৃষ্টি ফলে পানি বেড়ে চলছে।

রাজনগর উপজেলার মাছুম বকস জানান, মধ্য রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে মৌলভীবাজারের রাজনগর বাজারে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া কাউয়াদিঘি হাওরের নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, মৌলভীবাজারের উজানে ভারতের ত্রিপুরায় কয়েক দিন বৃষ্টি হবে না। ফলে বন্যার আশঙ্কা কম। ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টি হওয়ায় মৌলভীবাজার শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে বৃষ্টির পানি উপচে উঠছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন সড়কেও এক ফুটের উপরে পানি জমে রয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান বলেন, মৌলভীবাজারের নদীগুলোর পানি এখন পর্যন্ত বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। একদিনে প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে গেছে। যদি বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন হয়, তাহলে হয়তো প্রভাব পড়বে। তবে তা এখনই নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না।

বৈশাখী নিউজ/ বিসি