মেসিকে সতীর্থ হিসেবে পেয়ে ধন্য রামোস

তারা দুজন ছিলেন লা লিগার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। একজন যেখানে ছিলেন দলের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা, সেখানে অন্যজন রক্ষণের নেতা। বলছি লিওনেল মেসি ও সার্জিও রামোসের কথা। মেসি যে কতবার রামোসের কড়া ট্যাকলের শিকার হয়ে যন্ত্রণায় নীল হয়েছেন তার হিসাব নেই। তেমনি রামোসকেও কম নাচাননি এই আর্জেন্টাইন। তবে দুজন এখন একই পথের পথিক। আর বৈরিতাও এখন বদলে গেছে বন্ধুত্বে।

মেসি গোল করছেন আর রামোস তাকে জড়িয়ে ধরে গোল উদ্‌যাপনে সঙ্গী হচ্ছে -এমন দৃশ্য দূরতম কল্পনাতেও হয়তো ছিল না কারো। কিন্তু এটাই এখন বাস্তবতা। এমনটাই দেখা গিয়েছে ট্রফি দো চ্যাম্পিয়নের ম্যাচে নঁতের বিপক্ষে পিএসজির শিরোপা জয়ের রাতে।

৪-০ ব্যবধানে নঁতেকে হারিয়ে ট্রফি দো চ্যাম্পিয়নের শিরোপা জিতে মৌসুমের শুরুটা রাঙিয়েছে পিএসজি। সে ম্যাচে পিএসজির প্রথম গোলটা করেছিলেন মেসি। ব্যাকহিলে দারুণ এক গোল করেছেন রামোসও। সঙ্গে জোড়া গোল করেন নেইমার। আর প্রত্যেকটা গোল উদ্‌যাপনে দারুণ হৃদ্যতা দেখা গেছে এক সময়ের দুই বৈরী ফুটবলারকে। রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনার সেই উন্মত্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঝেরে ফেলে এ যেন নতুন মেসি-রামোস।

২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক সার্জিও রামোস মাদ্রিদ ছেড়ে থিতু হন প্যারিসে। মেসিও তরি ভেড়ান ফরাসি লিগের জায়ান্ট দলটাতে। তাতে লা লিগার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই তারকার নিয়তি মিলে যান এক বিন্দুতে। একসঙ্গে খেলার ফলে দুজনের মধ্যে যেমন দানা বেধেছে বন্ধুত্ব, তেমনি একজন আরেকজনকে প্রশংসায় ভাসিয়ে দিতেই কুণ্ঠাবোধ করছেন না। এক মৌসুম একই ড্রেসিংরুমে কাটিয়ে লিওনেল মেসিতে রীতিমতো মুগ্ধ রামোস।

মেসির সঙ্গে খেলতে পেরে মুগ্ধ রামোস। এক সময় শত্রুশিবির থেকে দেখেছেন আর্জেন্টাইন তারকাকে। তখনো মেসিকে সেরাদের একজন মানতে কার্পণ্য করতেন না। একই দলে খেলতে নেমে তাই দরাজ প্রশংসায় ভাসিয়ে দিলেন মেসিকে। ট্রফি দোঁ চ্যাম্পিয়ন জয়ের পর রামোসের কণ্ঠে মেসিবন্দনা। শিরোপা উৎসবের রাতে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মেসিকে সতীর্থ হিসেবে পাওয়া সম্মানের ব্যাপার। তার প্রশংসা করতে হয় না, সে নিজের খেলা দিয়েই প্রশংসা আদায় করে নেয়। আশা করি, সে এভাবেই খেলা চালিয়ে যাবে।’

গত মৌসুমটা মেসি ছিলেন না চেনা ছন্দে। লিগ ওয়ানের মৌসুমটা দারুণ গোলখরায় কাটিয়েছেন বার্সেলোনার সাবেক তারকা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে হার দেখেছেন মাঠে থেকেই। অন্যদিকে রামোসের সময়টা কেটেছে ইনজুরিতে মাঠের বাইরে বসে। তাই একসঙ্গে খুব একটা খেলা হয়নি দুজনের। তবে মাঠের বাইরে দুজনের রসায়নটা জমেছে বেশ। নতুন মৌসুমে ফুরফুরে রামোস খেলতে চান যত বেশি সম্ভব ম্যাচ।

এদিকে মাঠে গড়াচ্ছে লিগ ওয়ানের নতুন মৌসুম। আগামী ৬ আগস্ট ক্লেরেমন্তের বিপক্ষে মাঠে নামবে পিএসজি।

বৈশাখী নিউজ/ ইডি