ঠাকুরগাঁওয়ে দেড় লাখ টাকা লোপাট ছাত্রী হেনস্তা

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল (ভেটেকুল) ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মিমাংসা করার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান সোহাগের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২ ডিসেম্বর দুপুরে মোহাম্মদপুর বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছুটির পরে ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে ডেকে নেয় প্রধান শিক্ষক। এ সময় ছাত্রীকে হেনস্তা করে ওই প্রধান শিক্ষক। ভুক্তভোগী ছাত্রী ঘটনাটি তার পরিবারকে জানালে পরে আস্তে আস্তে এলাকায় ছড়িয়ে পরে। ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি অবগত হলে ছাত্রীর পরিবার ও প্রধান শিক্ষককে চাপ সৃষ্টি করে মিমাংসা জন্য।

সোমবার রাতে মিমাংসার জন্য এলাকার কিছু মানুষের উপস্থিতে ইউপি পরিষদে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার দুই লাখ টাকা মেয়ের বাবাকে দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। আর বাকি টাকা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় দালাল চক্র লোপাট করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন।

মেয়েটির বাবা বলেন, প্রথমে বাড়িতে কয়েকজন সাংবাদিক আসে পরে চেয়ারম্যান পরিষদে ডাকে দুই লাখ টাকায় মিমাংসা করে দেয়। ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে আর ২০ হাজার টাকা দিতে চাইছে। গরীব মানুষ অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাই। আর বিশেষ কিছু বলতে পারবো না। চেয়ারম্যানের বিপক্ষে কেমনে যাবো?

এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সাংবাদিকের নাম শুনলে এলাকার কেউ মুখ খুলছে না।

পরিষদে মিমাংসার সময় উপস্থিত নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, আমি গরীব মানুষ কোন সমস্যায় যেতে চাই না। গতকাল পরিষদে শিশু নির্যাতনের মিমাংসায় উপস্থিত ছিলাম চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে সেই শিক্ষকের কাছে দুই লাখ টাকা ও আপস নামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে স্বাক্ষী হিসেবে আমিও স্বাক্ষর করেছি। সব টাকা মেয়ের বাবা পায়নি। চেয়ারম্যান সাহেব ও তার লোকজন ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগ বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকায় ভুল বোঝাবুঝির একটি ঘটনা ঘটেছিল যা দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করা সমাধান করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে মিমাংসা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।