লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব, দুশ্চিন্তায় গরু পালনকারীরা

আপডেট: July 24, 2023 |
print news

ইমাম হাছাইন পিন্টু, নাটোর প্রতিনিধি: গত এক সপ্তাহে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় গরুর লাম্পি স্কিন রোগে এখন পর্যন্ত ১টি গরু মারা গেছে।

এতে গরু পালনকারীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ভাইরাসজনিত এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে লিফলেট বিতরণসহ উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রাণীসম্পদ বিভাগ গুরুদাসপুর নাটোর।

জানা গেছে, গরুর লাম্পি স্কিন ভাইরাসজনিত রোগ।
এই রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরে প্রথমে জ্বর দেখা দেয় এবং খাবারের রুচি কমে যায়।

জ্বর বেশি হলে নাক-মুখ দিয়ে লালা বের হয়, পা ও গলা ফুলে যায়। আক্রান্ত গরুর বুকের নিচে দুই পায়ের মাঝে পানি জমে।

গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়ায় গুটি গুটি ক্ষত হয় এবং পচন ধরে। সেই সঙ্গে চামড়া থেকে লোম উঠে যায়।

সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়া শুরু করলে এই রোগে আক্রান্ত পশুর সুস্থ হতে প্রায় এক মাস সময় লাগে।

বড় গরু লাম্পি স্কিন রোগে তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে থাকলেও বাছুর গরু আক্রান্ত হলে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ঝুঁকি বেশি থাকে।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আলমগীর হোসেন বলেন, লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে প্যারাসিটামল ও সর্দি থাকলে হিস্টাসিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানোর চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এছাড়া স্যালাইন খাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। বসন্তের একটি জাত ভাইরাসের মাধ্যমে এই রোগটি ছড়াচ্ছে। এই রোগ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক করাসহ ইউনিয়ন ভ্যাক্সিনেটরদের মাধ্যমে খামারি ও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।এবং আতংকিত হবার কিছু নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রাবনী রায় বলেন, গরুর লাম্পি স্কিন রোগ একটা ভাইরাসজনিত রোগ। মশা, মাছি জাতীয় রক্ত খায় এমন পতঙ্গের মাধ্যমে এক গরু থেকে আরেক গরুতে এই রোগ ছড়ায়।

রোগটা যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে এজন্য আমরা খামারি ও কৃষকদের গরুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখা ও মশা, মাছি ও ডাশের কামড় থেকে রেহায় পেতে মশারি ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিচ্ছি।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর