বুধবার পদ্মা সেতুর ৭ম স্প্যান খুঁটিতে বসানো হতে পারে

পদ্মা সেতুর ৭ম স্প্যান খুঁটিতে বসানোর  উদ্দেশে রওনা হয়েছে মাওয়া প্রান্ত থেকে। বুধবার সকালে স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তে ৩৬ ও ৩৭ নং পিলারের উপর বসানোর কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে স্প্যানটি বসানোর জন্য ৩৬-৩৭ নম্বর খুঁটি দুটি সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করেছে সেতু বিভাগ। ১৫০ মিটার লম্বা ও ১৩ মিটার প্রস্থ বিশাল স্প্যানটি ক্রেন দিয়ে উঠানো হবে।

সপ্তম স্প্যানটি বসানোর পর জাজিরা প্রান্তে সেতুর ৯০০ মিটার দৃশ্যমান হবে। এছাড়া মাওয়া পয়েন্টে একটি স্প্যান বসানো হয়েছে। এর ফলে সেতুর মোট দৃশ্যমান হবে ১০৫০ মিটার।

এভাবে একের পর এক ৪২টি স্প্যান জোড়া দিয়েই তৈরি হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ২০১৭ সালের অক্টোবরে প্রথম ও গত বছরের ১১মার্চ তৃতীয় স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর ৪৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছিল জাজিরা প্রান্তে। চতুর্থ ও পঞ্চম স্প্যানটি ৪০-৪১ ও ৪২  খুঁটির মাঝে বসানো হয়। ষষ্ঠ স্প্যান বসানোর পর দুই প্রান্ত ৭৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়।

সেতু বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, ৭ম স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তে  ৩৬-৩৭ নম্বর  খুঁটিতে বসানো হবে। এরই মধ্যে খুঁটি দুটির কাজ সম্পন্ন করে স্প্যান বসানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইর্য়াড থেকে স্প্যানটি নিয়ে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার “তিয়ান ই” ক্রেনটি যাত্রা পরিবহন করে নিয়ে আসে। স্প্যানটি খুঁটিতে তোলার পুরো কাজটি করছে ভাসমান এই ক্রেন।

তিনি আরও বলেন, এই ক্রেনটি দিয়েই খুঁটির ওপর স্প্যানটি বুধবার সকালে বসানো  হতে পারে। স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তে পিলারের কাছে পৌঁছতে ১ দিন সময় লাগে। কিন্তু নদীতে পদ্মা সেতুর কাজে ভারি যন্ত্রাংশ ব্যবহার হচ্ছে, বড় বড় ক্রেন কাজ করছে ও কুয়াশার কারণে ভাসমান ক্রেনটি ধীর গতিতে চলার কারণে স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তে পৌঁছতে একদিন সময় বেশি লাগে।

এদিকে ইতোমধ্যে এপ্রোজ সড়ক দিয়ে গাড়ি চলা চল শুরু করেছে। টোল প্লাজার নির্মাণ কাজ শেষ করেছে সেতু বিভাগ। পদ্মা সেতুর দুপারে দিন রাত চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। ৭ম স্প্যান বসানোর খবরে দারুণ খুশি দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ।