জনগণের চাহিদা অনুযায়ী নতুন মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেয়া হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, জনগণের চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘কোন জেলার কোন উপজেলার জন্য হাসপাতাল লাগবে, তা কত শয্যার হতে হবে, চিকিৎসক এবং নার্স এবং অন্যান্য কি সুবিধাদি প্রয়োজন তা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একটি জরিপ করে দেখতে হবে এবং সে অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
‘তবে, এর আগে জরিপ করে দেখতে হবে হাসপাতালগুলোতে কত রোগী যাচ্ছেন? কতজন এটেনডেন্ট রয়েছেন? ডাক্তাররা সেখানে থাকছেন না কেন? প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের সেখানে বদলী করা হচ্ছে তাদের কর্মস্থলে যেতে হবে।
টানা তৃতীয় বারসহ মোট চতুর্থবারের মত সরকার গঠনের পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে কতগুলো মেডিকেল কলেজ আছে সেটারও একটা সার্ভে করা উচিত, সেগুলোর কি অবস্থা তা জানার জন্য।’ তিনি বলেন, ‘কতজন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক রয়েছে, শিক্ষার কি কি সুযোগ রয়েছে, সেটা আগে দেখা দরকার। বড় জেলা, যেগুলোর ১০ থেকে ১২/১৩টি উপজেলা রয়েছে সেখানে আমরা মেডিকেল কলেজ করতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার অনেক হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে আড়াইশো বেডের করে দিলেও দেখা যায় যে, সেখানে রোগী যাচ্ছে না, বা রোগী পাওয়া যাচ্ছে না, আবার অনেক হাসপাতালে সার্জন বা অ্যানেসথেসিষ্ট পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, এখন থেকে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সেখানকার জনগণের প্রয়োজন সাপেক্ষে হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে এবং প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং সেখানকার সকল মেডিকেল কলেজ এর অধিভূক্ত হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. জাহিদ মালিক এবং প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
চিকিৎসার জন্য রেফারেল সিষ্টেম চালুসহ দেশে প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি হাসপাতালেই অনলাইন রেফারেল সিষ্টেম চালু করতে হবে।
তাঁর সরকার দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে এবং নার্সদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি এ সময় নার্সদেও পেশাকে দ্বিতীয় গ্রেডে উন্নীত করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রোগীদের সেবার বিষয়ে তাঁদের আরো আন্তরিকতার হবার নির্দেশ দেন।
নার্সদের ভালোভাবে দায়িত্ব পালন না করার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁদেরতো রোগীদের সেবা দিতে হবে। সেজন্যই আমরা তাদের পদমর্যাদা এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছি।’ ‘আমরা নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেনীর করেছি বলে আরেকটি ধাপ তৈরী করতে হবে রোগীদের সেবা করার জন্য তাহলে ঐ দ্বিতীয় শ্রেনীর নার্সদের দরকার নাই। আমার পরিস্কার কথা, আমি তাদের সুযোগ সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি কারণ, রোগী যেন সেবা পায়’, যোগ করেন তিনি।