বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক অব্যাহত রাখবে যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক অব্যাহত রাখবে যুক্তরাজ্য। রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে দেশটির হাইকমিশনার এলিসন ব্লেইক বৈঠক করে এ প্রতিশ্রুতি দেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া হাইকমিশনার ব্লেইক বাংলাদেশের ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ ও ২০৩০ সালের মধ্যে টেকশই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে নিশ্চিত করেন বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এলিসন ব্লেইক এ সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে একত্রে কাজ করার ইচ্ছার কথা আবারও ব্যক্ত করেন। এ সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৭১ সালে ব্রিটিশ জনগণের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন এবং ব্রেক্সিট পরবর্তী বিদ্যমান সব সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বৈঠকে নারীর ক্ষমতায়ন, দরিদ্রতা কমানো, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি জানান, ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে অবকাঠামোগত খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কটে সমন্বিত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া রোহিঙ্গারা যাতে নিজ ভূমিতে নিরাপদে এবং সন্মানের সঙ্গে ফিরে যেতে পারে সে বিষয়ে যুক্তরাজ্যকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

এ সময় হাইকমিশনার বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে এ সঙ্কট সমাধানে ব্রিটিশ সরকার ও জনগণের সব ধরনের সহযোগিতার কথা নিশ্চিত করেন।

দুই পক্ষই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সুশাসন, আরও গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, রোহিঙ্গা সঙ্কট, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একত্রে কাজ করতে একমত হয়।

বৈঠকের পরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিদেশে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।’ এ ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফেরানোর বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয় তদারকি করছে বলেও জানান তিনি।