যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ২৯ বছর পর ফরিদপুরে র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার

আপডেট: September 22, 2023 |
inbound3118703977139227084
print news

তারেকুজ্জামান, ফরিদপুর প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ জেলার সদর এলাকায় চাঞ্চল্যকর চায়ের দোকানদার হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে দীর্ঘ ২৯ বছর পর ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০।

গ্রেফতারকৃত আসামী হলেন, গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন কাঠি গ্রামের মৃত ওয়াদুদ দফাদাদের ছেলে মোঃ মিজান ওরফে শাহিন (৪৬)।

শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব জানায়, উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনাটি জানতে পেরে র‌্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল উক্ত চাঞ্চল্যকর চা দোকানদার সেকান্দার শেখ হত্যার জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাবের একটি আভিযানিক দল গতকাল ২১ সেপ্টেম্বর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর চায়ের দোকানদার সেকান্দার শেখ হত্যা মামলায় বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সাজা ওয়ারেন্টভুক্ত এবং দীর্ঘ ২৯ বছর যাবৎ পলাতক আসামি মোঃ মিজান ওরফে শাহিনকে গ্রেফতার করে।

র‍্যাব আরো জানায়, গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন তেলিগতি এলাকার মৃত নজির শেখের ছেলে সেকেন্দার শেখ (৩০), উক্ত এলাকার কাঠি বাজারে চায়ের দোকান দিয়ে তার জিবিকা নির্বাহ করতো।

গত ১৯৯৪ সালের ১৪ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সেকান্দার প্রতিদিনের ন্যায় চা বিক্রি শেষে তার নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করে।

পথিমধ্যে গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন কাঠি পশ্চিম পাড়া এলাকার কাঁচা রাস্তার উপর আনুমানিক রাত ১০টার দিকে উক্ত রাস্তার পাশে কিছু লোককে ফাকা জমির উপর বসে থাকতে দেখে সেকান্দার তাদের দিকে টর্চ লাইটের আলো ফেলে।

অতঃপর টর্চ লাইটের আলোতে সে দেখতে পায় ৭ থেকে ৮জন লোক সেখানে বসে গাঁজা সেবন করছে।

সেকান্দার তাদেরকে গাঁজা সেবনে মৌখিক ভাবে বাধা দিলে মোঃ মিজান ওরফে শাহিনসহ তার অন্যান্য সহযোগী মিলে সেকান্দারের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে সেকান্দারের বুকে, পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে সংবাদ দিলে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ভিকটিম সেকান্দারের মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করতঃ লাশ ময়না তদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

উক্ত হত্যাকান্ডের পর মৃত সেকেন্দার শেখ এর ভাই এনায়েত শেখ বাদি হয়ে গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা রুজুর বিষয়টি জানতে পেরে হত্যাকান্ডের জড়িত সবাই আত্মগোপনে চলে যায়। তাদের মধ্যে মোঃ মিজান ওরফে শাহিন উক্ত হত্যাকান্ডের পর কৌশলে মালয়েশিয়া চলে যায়।

দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া অবস্থান করার পর দেশে ফিরে আসে। পরবর্তীতে সে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার নাম ও পরিচয় গোপন করে লোকচক্ষুর আড়ালে চুপিসারে জীবনযাপন করতে থাকে।

র‍্যাব-১০, ফরিদপুর সিপিসি-৩ কোম্পানী অধিনায়ক লেঃ কমান্ডার কে এম শাইখ আকতার জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, গ্রেফতারকৃত আসামি উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততার সত্যতা স্বীকার করেছে।

সে মামলা রুজুর পর থেকে কৌশলে মালয়েশিয়া পলায়ন করে। পরবর্তীতে দেশে ফিরে আসে এবং গ্রেফতারের পূর্বে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার নাম ও পরিচয় গোপন করে আত্মগোপন করে ছিল বলে জানা যায়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর