বর্ণাঢ্য আয়োজনে জবির ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আপডেট: October 19, 2023 |
inbound8080769141704167015
print news

মোঃ আরিফ হোসাইন, জবি প্রতিনিধি: ‘আঠারোতে জগন্নাথ সাহসী নির্ভীক’ স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

জাতির পিতা এর ম্যুরালে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আনন্দ র‌্যালি, প্রকাশনা উৎসব, চারুকলা প্রদর্শনী, নাটক পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপিত হয়।

এদিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শহিদ মিনার চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এসময় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ।

এরপর সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ম্যুরাল-এ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ-এর নেতৃত্বে ব্যান্ডদলে সুসজ্জিত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আনন্দ র‌্যালিটি শহিদ মিনার চত্বর হতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে রায় সাহেব বাজার মোড় ঘুরে, ভিক্টোরিয়া পার্ক পরিক্রমণ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শেষ হয়।

এসময় ছাত্র-ছাত্রীরা নানা রঙ-বেরঙের টি-শার্ট ও শাড়ি পরে নেচে গেয়ে র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।

র‌্যালি শেষে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ভাষা শহিদ রফিক ভবনের নিচতলায় দিনব্যাপী প্রকাশনা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

সকাল ১১ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের নিচতলায় চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে ‘ঐতিহ্য ও পরষ্পরায় আমার প্রিয় ক্যাম্পাস’ শীর্ষক বার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

এদিন ১১টা ১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে নাট্যকলা বিভাগের উদ্যোগে ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ নাটক মঞ্চায়িত হয়।

পাশাপাশি বাঁধন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের উদ্যোগে ভাষা শহিদ রফিক ভবনের নিচতলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এরপর বেলা ১২ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীবৃন্দের অংশগ্রহণে, বেলা ১টা ৫০ মিনিটে ঘটিকায় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এবং বিকাল ৩.২০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠি-এর সমন্বয়ে মুজিব মঞ্চ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

এরমধ্যে নৃত্য, দলীয় সংগীত, নজরুল গীতি, লোক সংগীত উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্বতাকে সবচেয়ে গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে এবার দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত ব্যান্ড ও লোক গানের ব্যান্ডদল দুপুর ২টা থেকে বিকেল পর্যন্ত ধারাবাহকিভাবে গান পরিবেশন করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, “আজকের দিনের শিক্ষার্থীদের এই উচ্ছাস-আনন্দ, অনুভূতিই বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বড় সম্পদ ও অর্জন।”

তিনি বলেন, “স্মার্ট বাংলাদেশ গড়াই হচ্ছে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। আর স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমানের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখ সারিতে থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় সঠিকভাবে পরিচালনা ও উন্নয়নের জন্য সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস দ্রুততার সাথে শেষ করা সম্ভব, এজন্য প্রয়োজনে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করবো।”

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৩ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনসমূহ আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।

এদিকে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য জমিদানকারী জমিদার জগন্নাথ রায় চৌধুরীর বর্তমান বংশধরেরা ট্রেজারার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

২০ অক্টোবর ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ তথা ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ২০ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ১৯ অক্টোবর পালিত হয়।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর