ফরিদপুরে মাদ্রাসায় এতিমের নামে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাত: দুদকের মামলা

তারেকুজ্জামান, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের মধুখালীতে সাতটি এতিমখানায় ভূয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে ১ কোটি ২৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কল্লোল সাহা সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) মামলাটি দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সমন্বিত জেলা কার্যালয় ফরিদপুরের উপ-সহকারি পরিচালক মো: ইমরান আকন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত ২০১৯-২০ থেকে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সাতটি এতিমখানার অনুকূলে বরাদ্দকৃত ১ কোটি ২৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কল্লোল সাহা ও সহকারি সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: বাবুল আক্তার মোল্যা। অর্থ আত্মসাতে সহায়তা করেন ওই সাতটি এতিমখানার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগন।
মধুখালী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কল্লোল সাহা ও সহকারি সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: বাবুল আক্তার মোল্যা তারা দুই জন পরস্পর যোগসাজশে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার খোদাবাসপুর মোমেজান নেচ্ছা মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি মো: মজিবর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ শরীফ দ্বয়ের সহায়তায় প্রকৃত এতিম শিক্ষার্থীর চেয়ে মিথ্যাভাবে অতিরিক্ত এতিম শিক্ষার্থী দেখিয়ে ৫২ লাখ ৯২ হাজার টাকা, ভূষনা লক্ষনদিয়া এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং এর সভাপতি মো: মোতালেব হোসেন ও ক্যাশিয়ার মো: মোশারফ হোসেনের সহায়তায় অতিরিক্ত এতিম শিক্ষার্থী দেখিয়ে ৫লাখ ৫৮হাজার উত্তোলন করেন।
এছাড়া মাকড়াইল মাজেদা খাতুন এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি মো: আবুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ রইচ মিয়ার সহায়তায় ১৯ লাখ ৩২ হাজার, ফয়জিয়া মুসলিম এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ মহিউদ্দিন এর প্রত্যক্ষ সহায়তায় ১৬লাখ ৪৪ হাজার, মধুখালী মহিলা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং এর সভাপতি মো: জাহাঙ্গির মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো: শহীদুল্লাহ দ্বয়ের সহায়তায় ১৬লাখ ৩২হাজার টাকা।
গোন্দারদিয়া দারউস সালাম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার সাধারন সম্পাদক মো: আলম বিশ্বাস ও সাবেক সহ-সভাপতি মো: হাফিজুর রহমানের সহায়তায় ১৩লাখ ৮হাজার টাকা এবং ব্যাসদী লাল বানু অরফানেজ এর সাধারণ সম্পাদক মো: আজিজুর ও কোষাধ্যক্ষ মো: আলী আকবর দ্বয়ের সহায়তায় ভুয়া এতিম শিক্ষার্থী দেখিয়ে ৫লাখ ২২হাজার টাকা উত্তোলন পূর্বক আত্মসাত করেছেন মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া যায়।
এজাহারে আরো বলা হয়, কল্লোল সাহা, মো: বাবুল আক্তার মোল্যা, মো: মজিবর রহমান, আব্দুর রশিদ শরীফ, মো: মোতালেব হোসেন, মো: মোশারফ হোসেন, মো: আবুল হাসান, মো: রইচ মিয়া, মাওলানা মো: মহিউদ্দিন, মো: জাহাঙ্গীর মিয়া, মাওলানা মো: শহীদুল্লাহ, মো: আলম বিশ্বাস, মো: হাফিজুর রহমান, মো: আজিজুর রহমান, মো: আলী আকবর গণ পরস্পর যোগসাজসে অসৎ উদ্দেশ্যে লোভের বশবর্তী হয়ে নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করে ২০১৯-২০, ২০২০-২১, ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থ বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সাতটি এতিমখানায় ভুয়া এতিম শিক্ষার্থী দেখিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাত করেন।
১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর সুপারিশ করে দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবরে অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য দাখিল করা হয়।
দাখিলকৃত অনুসন্ধান প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ফরিদপুর উল্লিখিত আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা (এজাহার) দায়েরের অনুমোদন জ্ঞাপন করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সমন্বিত জেলা কার্যালয় ফরিদপুরের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, সাতটি এতিমখানায় ভূয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে ১ কোটি ২৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কল্লোল সাহা সহ এতিমখানা ও মাদ্রাসার দায়িত্বরত ১৫ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তিনি আরো বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে ভাতা সংক্রান্ত অসত্য তথ্য সরবরাহ করে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন না করায় তাদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।




