নিয়ম বদলে কারাগারে সকালের নাশতায় খিচুড়ি, হালুয়া-রুটি

 

ঔপনিবেশিক আমলের নিয়ম অবশেষে বদলালো, দুই টুকরা রুটি আর সামান্য গুড়ের বদলে কারাবন্দিরা সকালের নাশতায় পেলেন খিচুড়ি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল রোববার সকালে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের মধ্যে খিচুড়ি বিতরণ করে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

কারা কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে কারাগার প্রতিষ্ঠার প্রায় আড়াইশ বছর পর বন্দিদের সকালের নাস্তায় এই প্রথম পরিবর্তন আনা হল।

এতদিন একজন সাধারণ কয়েদি প্রতিদিন সকালে ১৪.৫৮ গ্রাম গুড় এবং ১১৬.৬ গ্রাম আটার তৈরি রুটি পেতেন সকালের নাশতায়। আর একই পরিমাণ গুড়ের সাথে একজন হাজতি পেতেন ৮৭.৬৮ গ্রাম আটার তৈরি রুটি।

অবশ্য ঈদে বা বিশেষ বিশেষ দিবসে জেলখানার খাবারের মেনুতে পরিবর্তন আসে। কারা কর্তৃপক্ষের ভাষায়, সেসব দিনে কয়েদি আর হাজতিদের ‘উন্নত মানের’ খাবার দেওয়া হয়।

১৭৮৮ সালে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে দেশের প্রথম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থাপনের পর থেকেই এ রুটি-গুড়ের নাশতার ওই নিয়ম চলে আসছিল বলে কারা কর্মকর্তারা জানান।

কেরানীগঞ্জে ঢাকার নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. মাহবুবুল ইসলাম বলেন, নতুন মেন্যুতে সপ্তাহে দুদিন থাকবে খিচুড়ি, চারদিন থাকবে রুটি ও সবজি। বাকি একদিন হালুয়া-রুটি পাবেন কারাবন্দিরা।

“এখন থেকে দেশের সব কারাবন্দি সকালে এই খাবার পাবেন। আজ সকালের নাশতায় ভুনা খিচুড়ি পেয়ে তারা খুব খুশি হয়েছে।”

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির বলেন, “মন্ত্রীর উদ্বোধনের পর দেশের ৬৮টি কারাগারে নতুন মেন্যুতে নাশতা দেওয়া হয়েছে। কেরানীগঞ্জ কারাগারে বন্দি ১০ হাজার ৩৯১ জন আজ খিচুড়ি পেয়েছেন। দুপুরে তারা আগের মতই ভাত-মাছ-ডাল বা ভাত-মাংস-ডাল-সবজি পাবেন।”

খিচুড়ি বিতরণের উদ্বোধন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “কারাগার হচ্ছে সংশোধনাগার। কারাবন্দিদের মানসিক প্রশান্তিতে রাখতে প্রিয়জনদের সঙ্গে তাদের মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। সেজন্য প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে টাঙ্গাইলে প্রিজন লিংক সার্ভিস চালু করা হয়েছে।”

পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “কারাগারে বন্দিদের চাহিদা অনুযায়ী ৩৮টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যেন তারা কারামুক্তির পর সংশোধনের সুযোগ পায়, আবার যেন অপরাধে না জড়ায়।”

অন্যদের মধ্যে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা পাশা, উপ-মহাপরিদর্শক টিপু সুলতান এবং ঢাকার জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।