বগুড়ায় ডাকাতি মামলার দুই আসামি গ্রেফতার

আপডেট: September 3, 2025 |
inbound3589523569602451445
print news

শাহজাহান আলী, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়া জেলার সদর থানা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে ডাকাতি মামলার তদন্তে প্রাপ্ত মোঃ কালাম মিয়া(৩৭) ও রাসেল সরকার (৩৭) নামে দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১২, বগুড়া।

০২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে বগুড়া জেলা সদর থানাধীন ফুলদিঘী একালা এবং সুলতানগঞ্জ পাড়া এলাকা হতে পৃথক দুটি অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

বিষটি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১২, বগুড়ার স্কোয়াড্রন লীডার কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ।

গত ১২ আগষ্ট রাত্রী অনুমান ১২.১০ ঘটিকার সময় চালক মোঃ আল-আমিন (৩৫), পিতা-মোঃ জালাল ব্যাপারী, সাং- বিক্রমপুর কামারগাঁও, থানা- শ্রীনগর, জেলা- মুন্সিগঞ্জ, বর্তমান সাং- লালবাগ শহীদ নগর, রোড নং-৩, থানা- লালবাগ, ঢাকা একটি টাটা পিকআপ EX2, যাহার রেজিঃ নং- ঢাকা মেট্রো-ন-২১-১৬৬৪ নাম্বারের নীল হলুদ রংয়ের পিকআপ গাড়ী কেরানীগঞ্জ থানাধীন বছিলা এলাকা হইতে ১,২০,০০০/- টাকার মালামাল (ফার্ণিচার) লোড করে গাইবান্ধা ও দিনাজপুরে পৌছানোর জন্য রওনা করে।

পথিমধ্যে একই দিন ভোর অনুমান ০৪.৩০ ঘটিকার সময় বগুড়ার শাজাহানপুর থানাধীন ০৪ নং আড়িয়া ইউনিয়নের রহিমাবাদ বি-ব্লক নামক স্থানে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ওভারপাস এর উপরে যাওয়া মাত্রই তিনটি প্রাইভেট গাড়ীতে অজ্ঞাতনামা লোকজন পুলিশের ব্যবহৃত লাল রংয়ের সিগন্যাল লাইট দিয়ে গাড়ী থামাতে বলে।

তখন উক্ত পিকআপ গাড়ীর ড্রাইভার গাড়ী থামাইলে অজ্ঞাতনামা ১৪/১৫ জন ডাকাত ডিবি পুলিশের লোক বলে পরিচয় দেয়।

একপর্যায়ে ড্রাইভারকে স্টিয়ারিং এ বসে থাকা অবস্থায় ড্রাইভারের হাতে হাতকড়া পড়ায়। পরে পিকআপের ড্রাইভার ও হেলপারকে গাড়ী থেকে নামিয়ে ডাকাতদের প্রাইভেট কারে উঠাইয়া গামছা দ্বারা চোঁখ ও হাত বাঁধিয়া ফেলে।

তারপর তাদেরকে নিয়া ডাকাতরা প্রায় ৩০ মিনিট গাড়ী চালাইয়া ইং ১২/০৮/২০২৫ তারিখ ভোর ০৫.০০ ঘটিকায় বগুড়া জেলার সদর থানাধীণ ০২ নং বাইপাসে ধনিয়াতলা নামক স্থানে রাস্তার পার্শ্বে দুই বিল্ডিং এর মাঝখানে হাত ও চোঁখ বাঁধা অবস্থায় নীচু গর্তের মধ্য স্বজরে ধাক্কা দিয়া ফেলিয়া পিকআপ ও মালামাল (ফার্নিচার) নিয়া যায় এবং স্থানীয় লোকজন ড্রাইভার ও হেলপারকে উদ্ধার করে।

পরবর্তীতে বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানায় মামলা নং-১৫ তারিখ ১৩/০৮/২৫ খ্রিঃ,ধারা-১৭০/১৭১/৩৯৫/৩৯৭/ পেনাল কোড-১৮৬০ রুজু হয়।

উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে র‍্যাব-১২,বগুড়া অজ্ঞাতনামা আসামীদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বগুড়া জেলার সদর থানা এলাকায় উল্লিখিত ডাকাতি মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামীগন অবস্থান করছে।

উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১২ বগুড়ার একটি চৌকস আভিযানিক দল ০২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক সেয়া ১২ টার দিকে বগুড়া সদর থানাধীন ফুলদিঘী পেপচি কোম্পানীর সামনে হতে ডাকাতি মামলার তদন্তে প্রাপ্ত প্রধান আসামী মোঃ কালাম মিয়া (৩৭), পিতাঃ মৃত-কামাল মিয়া, মাতাঃ মোছাঃ পান্না বেগম, সাং-মালগ্রাম ডাবতোলা, থানা-সদর, জেলা-বগুড়া´কে ০১ টি স্মার্ট মোবাইল ও ০১ টি পুরাতন বাটন মোবাইল এবং ০২ টি সীম সহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে বগুড়া জেলার সদর থানাধীন নিশিন্ধারা এনার্জি পাম্পের বিপরীত এলাকায় একটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে উল্লেখিত ডাকাতি মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামী রাসেল সরকার (৩৭), পিতাঃ মৃত-সাজ্জাদ হোসেন, মাতাঃ সাহিদা বেগম, সাং-সুলতানগঞ্জ পাড়া, থানা-সদর, জেলা-বগুড়া´কে ০১ টি পুরাতন বাটন মোবাইল ও ০২ টি সীমসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

র‍্যাব-১২ বগুড়ার স্কোয়াড্রেন কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীদের´কে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়৷তিনি আরও জানান যে, গত ১৭ আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখ উল্লেখিত ডাকাতি মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামী সাব্বির পাশা শাওন (৩০),গোলাম মোস্তফা পাশা (৩৯), এবং মোঃ সুমন (২৫)-কে গ্রেফতার করে বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর