জাবিতে জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষকদের বিচারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা

আপডেট: December 13, 2025 |
inbound1110158435852865516
print news

আমিনা হোসাইন বুশরা, জাবি প্রতিনিধি: গতবছরের জুলাই মাসে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে অনির্দিষ্টকালের জন্য তালা ঝুলিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়। এ সময় জাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার বিচার শেষ করার সময়সীমা ঘোষণা করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিচারকার্য শেষ হলেও শিক্ষকদের বিচারকার্য এখনো চলমান।

আজ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ উসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা।

মিছিল শেষে তারা উপাচার্যের কাছে দ্রুত বিচারের দাবি তোলেন। এ সময় উপাচার্য বিচারের কোন সময়সীমা নির্দিষ্ট করে বলেন নি। এরপরই প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়।

এ সময় জাকসুর সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় যে দাবি ছিল সেটি ছিল জুলাইয়ের মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার হওয়া।

কিন্তু প্রশাসন একই প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের বিচার করতে পারলেও কোন একজনের রহস্যের কারণে সেই প্রমান দিয়ে শিক্ষকদের বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি।

প্রশাসন আমাদেরকে বারবার বিচারের কথা বলে সময় দীর্ঘায়িত করেছে। আজকে দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রগামি যোদ্ধা ওসমান হাদী ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্য গুলি করা হয়েছে তা যেন জুলাই অভ্যুত্থানকেই গুলি করার শামিল।

জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছি আজকে ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক ও জুলাই আন্দোলনের অন‍্যতম ফ্রন্টলাইনার ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ ওসমান হাদী কে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে।

আমরা মনে করি, আজকের এই আস্ফালনের সুযোগ আওয়ামী লীগকে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। তাদের যে বিচারহীনতা আজকের এই ঘটনাতে প্রতিফলিত হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী দোসর শিক্ষকদের বিচার বারবার বৈঠকের কথা বলে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। যার ফলে ছাত্রলীগ এসে ক্যাম্পাসের ব্যানার টানিয়ে যায়।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন দিন সিসিটিভি ক্যামেরা অফ থাকবে সেই তথ্য পর্যন্ত ওদের কাছে পৌঁছে যায়।

প্রশাসনের রন্ধে রন্ধে আওয়ামী দোসর বসে আছে।যতদিন পর্যন্ত আওয়ামী দোসর শিক্ষকদের বিচার না হবে ততদিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অনির্দিষ্টকালের জন‍্য বন্ধ থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই সন্ত্রাসী শিক্ষার্থীদের বিচার সম্পন্ন করেছি।

৫৪বছরের জঞ্জাল সরানোর জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। ১৯জন শিক্ষককে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে এবং ৯জনকে সাময়িক বহিষ্কার করার হয়েছে।

গতকালও আমরা সারাদিন এ নিয়ে কাজ করেছি। শিক্ষকদের বিচার সম্পন্ন করা হবে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর