বানারীপাড়ায় কদর বাড়ছে দুর্লভ খেজুর রসের

আপডেট: January 2, 2026 |
inbound1303328428876871412
print news

সাব্বির হোসেন, বরিশাল প্রতিনিধি: সৌন্দর্য ও শস্যশ্যামলে ভরপুর বরিশাল অঞ্চলে শীত মৌসুম এলেই প্রাণ ফিরে পায় মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী শীতকালীন খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুরের রস ও গুড়ের চাহিদা প্রাচীনকাল থেকেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

বছরজুড়ে খেজুর গাছ অনেকটা অযত্নে পড়ে থাকলেও শীতের আগমনে শুরু হয় রস সংগ্রহের তোড়জোড়।

এর ধারাবাহিকতায় বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় কুয়াশাচ্ছন্ন কাকডাকা ভোরে খেজুরের রস পান করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন রসনাপ্রেমীরা।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মাঝে গাছ থেকে কলসভরা টাটকা খেজুরের রস সংগ্রহ ও তৃষ্ণা নিবারণের দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করে।

বাঙালির সংস্কৃতিতে পিঠাপুলির মতোই শীত মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ খেজুরের রস। এই রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা মেটানো হয়।

অনেকেই গুড় তৈরিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করলেও খেজুর রসের সংকটের কারণে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল বা অনৈতিক উপায়ে গুড় উৎপাদনে জড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও বানারীপাড়া উপজেলায় খেজুর গাছ প্রস্তুত করে রস সংগ্রহের দৃশ্য চোখে পড়ছে।

গাছিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন রস আহরণে। এ দৃশ্য উপভোগ করতে আসা অনেক দর্শনার্থী মোবাইল ও ক্যামেরায় মুহূর্তগুলো ধারণ করছেন।

গাছিরা বছরের অন্য সময় বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও শীত মৌসুমে খেজুরের রস সংগ্রহেই বেশি ব্যস্ত থাকেন।

গাছের আকার ও বয়সভেদে প্রতিটি গাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৫ লিটার পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করা সম্ভব।

স্থানীয় গাছি হানিফ হাওলাদার বলেন, “প্রতি বছরই খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। কয়েক বছর আগেও এলাকায় খেজুর গাছের অভাব ছিল না।

প্রয়োজনের তাগিদে ও অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিজ্ঞ গাছির অভাবও রস সংকটের অন্যতম কারণ।

গাছ চুক্তিতে নিয়ে গুড় তৈরি করা ব্যয়বহুল হলেও এই মৌসুমী পেশার প্রতি আমাদের আলাদা একটা টান রয়েছে।

খেজুরের রস সংগ্রহ আমাদের বংশগত ঐতিহ্য। যতদিন বেঁচে আছি, এই কাজ করে যেতে চাই।”

এ বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তনয় সিংহ বলেন, “খেজুরের রস ও গুড় গ্রামবাংলার ঐতিহ্য বহন করে।

খেজুর গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে খেজুর গাছ থেকে বাণিজ্যিকভাবে উল্লেখযোগ্য আয় করা সম্ভব।”

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর