বিএনপির সংরক্ষিত আসনে আলোচনায় শামসুন্নাহার ভুইয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত কোটায় যেতে চান রাজপথে দীর্ঘ আন্দোলন করা মহিলা দল এবং ছাত্রদল করা অনেক নেত্রী। যারা দলীয় আস্থা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক অবদান মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তাদের মনোনীত করেই সংসদের আসন দেন দল। এবার ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির ঢাকা মহানগরের নারী নেত্রী শামসুন্নাহার ভুইয়া।

যিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে প্রায় ২০ বছর ঢাকা দক্ষিন সিটির মহিলা কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলেও তিনি তার এলাকায় ৪ বার বিএনপিকে বিজয়ী করে টানা ৩য় বার মহিলা কমিশনার হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এস.এস (রাষ্ট্র বিজ্ঞান) বিভাগে পড়াশুনা শেষ করা শামসুন্নাহার ভুইয়ার স্থানীয় জনপ্রিয়তার পাশাপাশি রয়েছে বিএনপির রাজনীতিতে এক ক্লিন ইমেজ। শিক্ষা জীবনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (প্রাক্তন জগন্নাথ কলেজ) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়াও কিশোরগঞ্জ মহিলা দলের সাবেক সহ-সভাপতি, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সহ-সভাপতি, লালবাগ থানা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আহ্বায়ক, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিন বিএনপির সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ৪ নং সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এবার বেশ আলোচনায় এসেছে এই নারী নেত্রীর নাম।
বিভিন্ন সময় তিনি রাজপথের সংগ্রাম ও আন্দোলনে বহুবার আহত হয়েছেন। স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনেও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। রাজপথের প্রতিটি গণআন্দোলনে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। স্বৈরাচার পতনের সংগ্রামে বহুবার আহত হয়েও তিনি রাজপথ ছাড়েননি। যখন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পুরাতন জেলখানায় কারাবন্দি ছিলেন শামসুন্নাহার ভুইয়া নিজের বাসা থেকে সেই জেল গেটে খাবার নিয়ে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে দাড়িয়ে জনগনের মাঝে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন।
পারিবারিকভাবে স্বামী বীর মুক্তিযুদ্ধা সিরাজুল ইসলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ) ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক কমিশনার ও মহানগর বিএনপির নেত্রী শামসুন্নাহার ভুইয়া জানান, বছরের পর বছর আমার দল বিএনপির জন্য স্বার্থহীন ভাবে রাজপথে থেকে কাজ করেছি আপনারা সকলেই জানেন। দলের কঠিন দুঃসময়ে আমরা সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছি। বিএনপির কথা বলে রাজপথে অনেক পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। বিগত স্বৈরাচারের আমলেও ঢাকা সিটির ২৭, ২৮ ও ৩০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচনে আমি বিএনপির জন্য টানা ৩ বার বিজয় এনেছি। আমার স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করেছি তাই স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ক্ষমতাকালেও তাদের প্রতিনিধিকে হারাতে পেয়েছি। কাছে থেকে জনগনের সেবা করার চেষ্টা করি সবসময়। তাই রাজনৈতিক অবদান, শিক্ষিত নেতৃত্ব দেখেই দল আমাকে বিবেচনা করবে সেই প্রত্যাশাই আমার।

মনোনয়ন পেলে কী কাজ করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে শামসুন্নাহার ভূইয়া আরও বলেন, “আমাদের প্রয়াত বিএনপির চেয়ারম্যান আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তরুন প্রজন্মের আইডল বিএনপির চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বিগত ফ্যসিস্ট সরকারের সময় ঢাকার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও ঢাকা দক্ষিনের জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রীদের পাশে ছিলাম। জেল জুলুম অত্যাচারিতদের পাশে ছিলাম। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর থাকার সুবাদে বিএনপির রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের আইনি ও আর্থিক সহায়তা করার সুযোগ পেয়েছি। সব শেষ তরুনদের আইডল তারেক রহমান মনোনিত ঢাকা-৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কে বিজয়ী করতে দিনরাত মাঠে ছিলাম। আমাকে মহান জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে সুযোগ দিলে আমার নির্বাচনী এলাকার অসহায় দুস্থ মানুষের পাশাপাশি সন্ত্রাস, মাদক মুক্ত, উন্নত, শান্তিপূর্ন জনপদ গড়ে তুলতে সকল বিষয় সবার সহযোগিতা নিয়ে, সর্বোপরি দেশনায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করবো।
বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে মহানগরের এই আপোষহীন নেত্রীর স্থানীয় জনপ্রিয়তা বরাবরই চোখে পরার মত।
চকবাজার এলাকার এক বাসিন্দা সবুজ মিয়া বলেন, সাবেক কমিশনার শামসুন্নাহার ভুইয়া বিএনপির রাজনীতিতে এক অনন্য নক্ষত্র। তিনি কমিশনার থাকাকালিন আমরা আপার কাছে সকল সমস্যার কথা বলতে পেরেছি খুব কাছে থেকে। তিনি সব সময় জনগনের দরগোরায় সেবা পৌঁছে দিতেন । শামসুন্নাহার আপা রাজপথে বিএনপির রাজনীতিকে যে ভাবে ধারন করেছেন বিগত দিনে আমরা সেটা স্বচোক্ষে দেখেছি। সেই হিসেবে আমরা চাই আপাকে দল সংরক্ষিত আসনে মনোনীত করুক। তাহলে আমাদের মত সাধারন মানুষজন আরও অনেক সুবিধা পাবে।




















