দেশে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত, তিতাস এলাকায় গ্যাস সংকট

আপডেট: April 21, 2026 |
inbound8641032322298268645
print news

এলএনজি সরবরাহের একটি ভাসমান টার্মিনাল ‘কারিগরি কারণে’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ প্রায় ৪০০ এমএমসিএফডি কমে গেছে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

এ কারণে তিতাস গ্যাসের অধীন পুরো এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকবে বলে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার তিতাস গ্যাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আরএলএনজি সরবরাহের একটি এফএসআরইউ কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ‍্যাসের সরবরাহ প্রায় ৪০০ এমএমসিএফডি হ্রাস পেয়েছে।

“এর ফলে গজারিয়া, মেঘনা ঘাট, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার দক্ষিণাংশসহ সমগ্র তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করবে।”

তবে কখন থেকে এই পরিস্থিতি শুরু হয়েছে, কতক্ষণ স্থায়ী হতে পারে বা কবে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু জানানো হয়নি।

সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

বিদেশ থেকে তরল অবস্থায় আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিকে ফের গ্যাসে রূপান্তর করা হলে তাকে বলা হয় রিগ্যাসিফায়েড লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস বা আরএলএনজি। সেই গ্যাস বা আরএলএনজি পাইপ লাইনের মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়।

আর জাহাজ থেকে খালাস এবং তরল থেকে গ্যাসে রূপান্তরের এই কাজটি করে ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা এফএসআরইউ, যাকে সাধারণ ভাষায় এলএনজি টার্মিনাল বলা হয়।

সমুদ্রে ভাসমান এই টার্মিনালে জাহাজ থেকে নামানো এলএনজি সংরক্ষণ করা হয়, পরে তা গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হয়।

মহেশখালীতে দেশের প্রথম এলএনজি আমদানি টার্মিনাল ২০১৮ সালে চালু হয়, যার পুনর্গ্যাসীকরণ সক্ষমতা দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট। পরে একই ধরনের আরেকটি টার্মিনালও চালু হয়, যার সক্ষমতাও সমান।

এতদিন দুটি এফএসআরইউ থেকে দৈনিক ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাইপলাইনে সরবরাহ করা হচ্ছিল। টার্মিনাল বন্ধ থাকায় এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

তিতাস গ্যাস ঢাকাসহ আশপাশের বড় এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করে। ফলে বেশ বড় এলাকাজুড়ে বাসাবাড়ি এবং সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে মানুষকে গ্যাসের জন্য ভুগতে হবে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর