মার্কিন চুক্তিকে ‘সম্পর্ক উন্নয়ন’ হিসেবে দেখছেন উপদেষ্টা তিতুমীর

আপডেট: May 6, 2026 |
inbound1078495184818835765
print news

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য নিয়েই ‘তড়িঘড়ি’ করে মার্কিন বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে কী না প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বিষয়টিকে ‘সম্পর্ক উন্নয়ন’ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, “চুক্তিতে কতগুলো বিষয় থাকে, যেগুলো কে আমরা দেখছি যে, দুই দেশের সাথে আপনার সম্পর্ক উন্নয়নের। এবং আমরা চাই যে, সম্পর্ক উন্নয়ন আরও উচ্চতায় যাক।

“এবং সেই ক্ষেত্রে যেগুলো আমাদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। কারণ নিয়ম কি? যে যেকোনো রাষ্ট্র তার সাথে আন্তর্জাতিকভাবে বা দ্বিপাক্ষিকভাবে যে সমস্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, সেই সমস্ত চুক্তিকে ইন্টারন্যাশনাল নর্মকে আমাদেরকে অনার করতে হবে।”

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থ উপদেষ্টা। ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে আরও আলোচনার ওপরে জোর দেওয়ার কথা তিনি বলেছেন।

আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “কিন্তু আমরা যে বিষয়ে জোর দিচ্ছি, সেটি হচ্ছে যে, যে চুক্তির মধ্যে যে কনসালটেশনের ব্যাপারগুলো আছে, সেই কনসালটেশন এবং তার মেকানিজম বাড়িয়ে যাতে বাংলাদেশের স্বার্থকে আরও অগ্রায়িত করা যায়।

“এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুধুমাত্র যে, এখন তো একটা একটা পণ্য আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের সবচেয়ে বড় বাজার। আমরা চাই যে আরও পণ্যের বাজার হোক।”

যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে একইরকম সম্পর্ক ধরে রাখার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

তার ভাষ্য, “আমাদের এই এশিয়া অঞ্চলের জাপান হোক, চীন হোক, কোরিয়া হোক, সবার সাথে কিন্তু আমার বৈঠক হচ্ছে। প্রতিদিনই আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে আমার সাথে, আবার আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের, এমনও লক্ষ্য করেছেন একই দিনে, আমাদের পার্শ্ববর্তী এবং এশিয়ার একটি দেশের সাথে সভা হয়েছে। এবং জাপানের সাথে সভা হচ্ছে।

“তার মানে হচ্ছে যে, এবং আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং আমি, বিভিন্ন দেশে সফর করছি এবং সেখানে আমাদের একটাই লক্ষ্য যে বাংলাদেশকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

তিনি বলেন, “বিশেষ করে নতুন বাজার সৃষ্টি, এবং সেখানে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেই বাজারে আমাদের, এর, এর যাতে উপস্থিতি আরও বাড়ে।”

মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “আমরা অনেকগুলো প্রকল্প প্রোডাক্টের কথা বলেছি যেমন স্পেসিফিক হচ্ছে যে ওষুধের ক্ষেত্রে।

“তা আমরা তারপর আমরা চাই যে, আমাদের কৃৎকৌশলগত যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কৃৎকৌশলগত বিষয়ে বা বৈজ্ঞানিকভাবে কতগুলো বিষয়ে এগিয়ে আছে। এবং আমি স্মরণ করিয়ে দিয়েছি যে অতীতেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের সাথে সহায়তা করেছেন। সেটা শিক্ষার ক্ষেত্রে, সেটা হচ্ছে কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে। তা আমরা চাই যে, এই ক্ষেত্রগুলো আরও বাড়ুক।”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পাল্টা বাণিজ্য চুক্তি বা এআরটি’ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সমালোচনার মধ্যে ঢাকা সফরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লিঞ্চ। তার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকায় থাকবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি করে। চুক্তিতে ১৩১টি শর্ত রয়েছে, যা বাংলাদেশকে মানতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছয়টি শর্ত মানতে হবে বলে খবর এসেছে।

ট্রাম্পের বাড়তি সম্পূরক শুল্ক এড়াতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সোমবার এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ঢাকার উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছেন এক আইনজীবী।

মার্কিন প্রতিনিধি দলের এ সফরের আগের দিন জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ মাইদুল ইসলাম পলক।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিটিকে ‘সুস্পষ্টভাবে অযৌক্তিক এবং কাঠামোগতভাবে অসম’ আখ্যা দিয়ে রিট আবেদনে বলা হয়েছে, এটি কেবল বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থেরই পরিপন্থি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও ক্ষতিকর।

এছাড়া এর মধ্যে বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, বিমান বহরে ‘আন্তর্জাতিক মানের’ উড়োজাহাজ যুক্ত করতেই মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের বিমান বহরটি একদম আন্তর্জাতিক মানের হলেও, আন্তর্জাতিক বিমান আছে ঠিকই, কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের নয়।

“সেই মান সম্পন্ন করার জন্য আমরা ইতিমধ্যে ১৪টি বোয়িং ক্রয়ের স্বাক্ষর করেছি এবং আরো কিছু বিমান আমরা লিজ করব।”

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর