চীনে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ১০ জনের মৃত্যু

চীনের দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর (সিএমএ) মঙ্গলবারও ভারি বৃষ্টি ও তীব্র ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি রেখেছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে জানানো হয়েছে যে, প্রবল বর্ষণের এই ধারা এখন সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
দুর্যোগ মোকাবেলা ও রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তৎপরতা গতিশীল করতে চীনের ‘স্টেট ফ্লাড কন্ট্রোল অ্যান্ড ড্রাউট রিলিফ হেডকোয়ার্টার্স’ হুনান ও গুয়াংশি প্রদেশে প্রাতিষ্ঠানিক ‘লেভেল-ফোর’ জরুরি অবস্থা জারি করেছে। এ ছাড়া হুবেই, চংকিং ও গুইঝু প্রদেশেও এই জরুরি সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে।
টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বিশেষ করে মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে স্থানীয় বেশ কিছু রেকর্ড ভেঙে গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, হুবেই প্রদেশের ৩৩৭টি টাউনশিপ বা উপজেলায় গত ৪৮ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সিসিটিভি আরও জানায়, গুয়াংশি প্রদেশে ভারি বৃষ্টির মধ্যে ১৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি পিকআপ ট্রাক পানিতে উপচে পড়া নদীতে পড়ে গেলে ছয়জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া হুবেই প্রদেশের একটি নিচু গ্রামে হড়পা বানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় হুনান প্রদেশে আরও একজন মারা গেছেন।
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ডুয়িন’-এ প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, হুবেই প্রদেশের জিংঝু শহরের বাসিন্দারা হাঁটু সমান পানিতে দাঁড়িয়ে আছেন এবং জলমগ্ন রাস্তায় সাঁতরে বেড়ানো মাছ ধরছেন। বেশ কিছু গাড়ি প্রায় পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন সেবা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। জরুরি উদ্ধার অভিযান চলছে এবং হুবেই ও হুনানের কিছু অংশের বাসিন্দাদের সক্রিয়ভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ চীন সাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পের একীভূত মিশ্রণের ফলেই মূলত এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে তীব্র বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দুই দিন এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর ফলে বুধবার থেকে ইয়াংসি নদীর মধ্য ও নিম্ন অববাহিকায় সবচেয়ে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।













