স্পেনে করোনা এখনো নিয়ন্ত্রণহীন, মৃত্যু বাড়ছেই

স্পেনে আবারো বেড়েছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে পাঁচ হাজার চারশ ৭৮ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এনিয়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার পাঁচশ ১০ জনে। গত শনিবার থেকে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করলেও গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যাটি বেড়েছে। এর মানে এটি বুঝায় যে, স্পেন এখনো করোনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।

স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সাতশ ৪৩ জন মানুষ মারা গেছেন। এনিয়ে মোট মৃতের সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার সাতশ ৯৮ জনে। গত শনিবার থেকে মৃতের সংখ্যাটিও কমে আসছিল। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় এই সংখ্যাটি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণে স্পেনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইউরোপের এই দেশটিতে মারাত্মক আকার নিয়েছে করোনা। পেড্রো সানচেজের সরকার এই মহামারি মোকাবেলায় লড়াই করছে। সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন্য মাঠে নামানো হয়েছে। হাসপাতালের সেবা বাড়ানো হয়েছে। তবে আইসিইউর অভাব রয়েছে দেশটির হাসপাতালগুলোতে।

গত তিন সপ্তাহ ধরে লকডাউনে রয়েছে সমগ্র স্পেন। লকডাউনের সময় বাড়ানো নিয়ে মন্ত্রিপরিষদের মিটিং হওয়ার কথা রয়েছে আজ মঙ্গলবার। পরে পার্লামেন্টের অনুমতি পেলে ১১ এপ্রিল থেকে বাড়ানো হবে। কারণ লকডউন রাখার ফলেই করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় আবার হঠাৎ করেই বেড়ে যায় করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

এদিকে, করোনার এই সঙ্কট মোকাবেলা এবং অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের জন্য বিরোধী নেতা ও প্রাক্তন মিত্রদের কাছে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সানচেজ। ৬ এপ্রিল প্রকাশিত জিএডি-থ্রি এর এক জরিপে দেখা যায়, জরুরি অবস্থা শুরুর পর থেকে সরকারের কর্মক্ষেত্র অনুমোদনের পরিমাণ ৩৫ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশে নেমে এসছে। এর মানে দেশটিতে বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে।

ইউরোপের বর্তমানে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ স্পেন। দেশটিতে সব কিছু বন্ধ রয়েছে। তবে ওষুধ ও বাজার খুলা রয়েছে। সাধারণ মানুষ কেবল বাজার করতে আর ওষুধ কিনতে বের হতে পারছেন। বাড়ির বাইরে বের হয়ে শরীর চর্চা করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দেশটিতে।

সূত্র: ব্লুমবার্গ।

বৈশাখী নিউজবিসি