রিকশা চালক শাহ্‌-আলম এখন মাছ বিক্রেতা

ফারজানা শারমিন: করোনাভাইরাস মানুষের জীবনকে বিশৃঙ্খল করে দিয়েছে। পরোক্ষভাবে এই বিধ্বংসী সংক্রামক ব্যাধির অন্যতম শিকার হয়েছেন রিকশা চালক শাহ্‌-আলমকরোনা একটি ছোঁয়াচে রোগ। সাধারণত রিকশায় চড়ে অনেক যাত্রী ভ্রমণ করে।

এর মধ্যে থাকতে পারে অনেক কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি । সেই কোভিড-১৯ রোগী কে হতে পারে জানেন না কেউ। তারা তাদের শরীরে এই ভাইরাসটি বহন করছেন এবং তা অন্যান্য মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে নিজের অজানাতেই।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় রিকশা চালানোর কাজ এখন জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছেন শাহ্‌-আলম। আবার অনেক যাত্রী এই সময়ে রিকশায় চলাচল করতেই ভয় পান। এমন পরিস্থিতিতে রিকশা চালক শাহ্‌-আলম রিকশা চালানোর কাজ বাদ দিয়ে মাছ বিক্রেতা হয়েছেন ।

শাহ্‌-আলম বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি পাঁচ বছর ধরে ঢাকার রামপুরা এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দুজনেই উপার্জন করছিলেন। তাদের আয় খুবই সীমিত। তাঁর স্ত্রী অনেক বাড়িতে গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করতেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। উভয় ছাত্র, তারা স্বাভাবিক সময়ে স্কুলে যেত। তবে এখন তাদের বাচ্চারা অন্যান্য শিশুদের ঘরে বসে পড়াশুনা করছে।

তিনি করোনার প্রাদুর্ভাবের সময় তার নতুন এবং পুরাতন পেশা, আয় এবং তার পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলেছিলেন, “আমি পাঁচ বছর ধরে রিকশা টানা চাকরীতে নিযুক্ত ছিলাম। প্রতিদিন আমি কমপক্ষে ১০০০ টাকা উপার্জন করতাম । আমার স্ত্রী চাকুরি করতেন। আমরা মোটামুটি অর্থ উপার্জন করতাম। কিন্তু আমার স্ত্রী করোনার মহামারীর কারণে বেকার হয়ে পড়েছে।আমি রিকশা চালানোর চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছি। বেশিরভাগ পরিবহন কর্মীরা চাকুরী ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এখন আমি প্রতিদিন সকালে মাছের আড়ৎ থেকে মাছ কিনে মানুষের দরজায় দরজায় মাছ বিক্রি করি। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মাছ বিক্রি করি।এই করোনার সময় আমি পর্যাপ্ত অর্থ উপার্জন করতে পারছি না।আমি মাছ বিক্রি করে প্রতিদিন তিনশ থেকে পাঁচশত টাকা উপার্জন করি।

আমরা এখনও কোন সরকারি ত্রাণ পাইনি। যদি সরকার আমাদের ত্রাণ দেয় তাহলে আমরা সরকারের কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকব। ”

বৈশাখী নিউজজেপা