ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন আর নেই

ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন (৮৭) ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার (৩১ মার্চ) সকাল ১১টায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় নেয়া হয়। বিকেল সোয়া ৪টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

১৯৩৪ সালের ৩ জুলাই মালদা জেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবুল হোসেন। তিনি মালদা স্কুলে পড়াশোনা করতেন। পরে রাজশাহী কলেজে এসে ভর্তি হন ১৯৫১ সালে। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকারের জন্য ঢাকা যখন উত্তাল, তখন তিনি রাজশাহীতে মাতৃভাষায় বাংলার জন্য আন্দোলন করেছিলেন। এছাড়া তিনি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের রাজশাহীর সভাপতি ছিলেন।

ভাষা সৈনিক আবুল হোসেনের বড় ছেলে প্রকৌশলী আবুল হাসনাত জানান, বয়স হলেও আবুল হোসেন সুস্থ ছিলেন। গত ১৫ মার্চ থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি। খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ঠান্ডা লেগে শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকেন। বুধবার সকালে তাকে বারিন্দ মেডিক্যাল কলেজে দেখানো হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা আবুল হোসেনের অবস্থার অবনতি দেখে তাকে দ্রুত রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়ার পরামর্শ দেয়। পরে সকাল ১১টায় তাকে রামেক হাসপাতালে নেয়া হয়। সোয়া ৪টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো জানান, মৃত্যুকালে দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন। তার একমাত্র কন্যা শাহনারা খাতুন। ছোট ছেলে আবুল আহসান অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় টিকাপাড়া গৌরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

এদিকে, ভাষা সৈনিক আবুল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, ভাষা সৈনিক আবুল হোসেনের অবদান জাতি স্মরণ রাখবে।

বৈশাখী নিউজজেপা