ফরিদপুর-৩: আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল

আপডেট: December 15, 2023 |
inbound9038922505810372745
print news

তারেকুজ্জামান, ফরিদপুর প্রতিনিধি: দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে ফরিদপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

আজ শুক্রবার সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ অন্য নির্বাচন কমিশনাররা এই রায় ঘোষণা করেন।

শামীম হক দ্বৈত নাগরিক হওয়ায় বুধবার ইসিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনে তাঁর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে আংশিক শুনানি হয়। পরে শুনানি স্থগিত রেখে ইসি শুক্রবার রায়ের দিন নির্ধারণ করেছিল।

শামীম হক নেদারল্যান্ডসের নাগরিক—এমন অভিযোগ তুলে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে গত ৮ ডিসেম্বর আবেদন করেছেন একই আসলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ।

আজাদের পক্ষে তার আইনজীবী মো. গোলাম কিবরিয়া ইসিতে আপিল আবেদন জমা দেন। তার আপিল মঞ্জুর করা করায় শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল হলো।

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শামীম হক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি।

৮ ডিসেম্বর আইনজীবী মো. গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী শামীম হক নেদারল্যান্ডসের নাগরিক।

স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ তথ্য-উপাত্তসহ লিখিত অভিযোগ করা সত্ত্বেও রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীম হকের মনোনয়নপত্র বাতিল না করে বৈধ ঘোষণা করেন।

শামীম হক সম্প্রতি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু করতে ফরিদপুর পাসপোর্ট কার্যালয়ে দরখাস্ত দিয়েছেন। দরখাস্তে দ্বৈত নাগরিকত্বের ঘরে তিনি টিক মার্ক দিয়েছেন।

২৬ নম্বর কলামে অন্য দেশের নামের জায়গায় নেদারল্যান্ডস উল্লেখ করেছেন।

‘একজন বিদেশি নাগরিক হওয়ায় তিনি সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হতে পারেন না। এফিডেভিটে এ তথ্য গোপন করায় তার মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কথা’, বলেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শামীম হক বলেন, ‘আমি নেদারল্যান্ডসের নাগরিক ছিলাম। তবে সম্প্রতি আমি ওই নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের জন্য দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি।

নেদারল্যান্ডসের দূতাবাস জানিয়েছে, আমার আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।’

এর আগে সোমবার (৪ ডিসেম্বর) দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হকের দলীয় মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার বরাবর আবেদন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কাদের আজাদ (এ কে আজাদ)।

জানা যায়, শামীম হক নেদারল্যান্ডে থাকার সময় দীর্ঘদিন অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এই পদে থাকতে হলে যেকোনো ব্যক্তিকে ওই দেশের নাগরিক হতে হয়।

প্রবাস রাজনীতিতে দলীয় পদ পদবি পেতে হলে স্ব-স্ব দেশের ভোটার ও বৈধ নাগরিক হতে হয়।

রিটার্নিং অফিসার বরাবর জমা দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছিল, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সংসদীয় ২১৩ ফরিদপুর-৩ আসনে শামীম হক মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, যিনি একজন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাসপোর্টধারী দ্বৈত নাগরিক, যাহা বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ‘গ’ ধারা অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

উক্ত প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমানপত্র দেখাতে না পারলে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করার বিনীত অনুরোধ করছি। চিঠির একটি অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বরাবরও পাঠানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে হলে আগ্রহী প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া ছাড়াও বয়স ২৫ বছরের ঊর্ধ্বে হতে হবে।

এ ছাড়া অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া কিংবা দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রার্থীর অযোগ্যতা বলে বিবেচিত হবে। ৬৬ ধারায় আরও উল্লেখ আছে, কোনো ব্যক্তি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে ও পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে; কিংবা অন্য ক্ষেত্রে পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তিনি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন বলে গণ্য হবে না।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর