ঠাকুরগাঁও পুলিশের অভিযানে প্রতারক-চাঁদাবাজসহ গ্রেফতার ৫

জাহাঙ্গীর আলম ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব উত্তম প্রসাদ পাঠক মহোদয়ের সার্বিক দিক-নিদের্শনায় আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ কর্তৃক প্রতারক চক্রের ২ সদস্য এবং ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ কর্তৃক অপহরণ করে চাঁদাবাজি করায় ৩ জন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করা হয়।
২১ জানুয়ারি (রবিবার) রাতে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে উক্ত থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল ডিউটি পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ৮নং বড়বাড়ী ইউনিয়নের অন্তর্গত বড়কোট কাটাবাড়ি শ্রী ললিন চন্দ্র (৫৬) এর বসতবাড়ির ভিতর থেকে প্রতারক চক্রের ২ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বড় কোট গুচ্ছগ্রাম এলাকার মৃত খকেন পালের ছেলে সুশেন পাল ওরফে হ্যান্ডেলু (৫৮) ও ভানোর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের নাসিরুল ইসলামের ছেলে মমতাজ আলী। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে বালিয়াডাঙ্গী থানায় প্রতারণা মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। একইদিনে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ কর্তৃক ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ০৪ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত সরকারপাড়া প্রাইমারী স্কুলের পার্শ্বে মসজিদ সংলগ্ন পুরাতন হাফিজিয়া মাদ্রাসার মেসে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এক স্কুল ছাত্রকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। এঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা সোহরাওয়ার্দী (৫৮), পিতা- মৃত আব্বাস আলী, স্থায়ী: গ্রাম- কিসামত বাগদহ, থানা- দেবীগঞ্জ, জেলা- পঞ্চগড় এর ছেলেকে অপহরণ করে রাখার অপরাধে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করে।পরে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মোঃ বিশাল (২২), পিতা- মোঃ আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজ, মোঃ সাব্বির (২৩), পিতা- মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং মোঃ মাসুদ (২২), পিতা- মোঃ আব্দুল মালেক। অপর আসামি শহরের রামবাবু গোডাউন এলাকার মুরাদ (২০)। তারা সবাই সদর উপজেলার সরকার পাড়া এলাকার বাসিন্দা।এই ঘটনায় মুরাদ নামে আরেক আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার বিবরণীতে ভুক্তভোগী জানান, তার ছেলে কোচিং এ যাওয়ার পর সন্ধ্যা হওয়ার পরেও বাড়ি না ফেরায় তিনি অনেক বার মোবাইলে কল দেন কিন্তু মোবাইল বন্ধ পায়। এরপর রাত অনুমান ১ টায় তার ছেলে ও সহপাঠিদের অপহরণ করা হয়েছে এবং তারা ৪০,০০০/- টাকা মুক্তিপন দাবি করে। তিনি উক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করলে গ্রেফতারকৃত আসামীরা তার ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং তার ছেলে ও সহপাঠিদের কাছে থাকা অর্থ হাতিয়ে নেয়। ভুক্তোভোগী সোহরাওয়ার্দী (৫৮) পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার কিসমত বাগদহ গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে।
তিনি শহরের গোয়ালপাড়া এলাকায় ভাড়ায় থাকেন। ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি এবিএম ফিরোজ ওয়াহিদ জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগে ঠাকুরগাঁও থানায় একটি মামলা হয়েছে যার মামলা নং-৩৬। তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপরজনকে আটকের চেষ্টা চলছে।













