মান্দায় দায়সারা কাজ করেই কাবিখা প্রকল্পের ৩০ টন চাল গায়েব

আপডেট: December 23, 2025 |
inbound594982719191585935
print news

আকতারুজ্জামান নাইম, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে দায়সার কাজ করেই কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের ৩০ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চাল গায়েব করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ৪টি প্রকল্পের কাজ কাগজে কলমে সম্পন্ন দেখিয়ে এরই মধ্যে সমুদয় চাল উত্তোলন করেছেন প্রকল্প সংশ্লিস্টরা।

প্রকল্পেগুলো হচ্ছে বনগ্রাম দুলালের বাড়ি হতে আতাউরের পাইকড়ের গাছ পর্যন্ত রাস্তা ( সাড়ে ৫ মেট্রিক টন), চকরামাকান্ত পাকা রাস্তা হতে আব্বাসের বাড়ির রাস্তা (৯ মেট্রিক টন), চকমানিক মসজিদ হতে সোহবারের বাড়ির রাস্তা (৭ মেট্রিক টন) এবং চকগৌরী ব্রিজ হতে আতাউরের বাগান অভিমুখে রাস্তা (৯ মেট্রিক টন)।

সরকারিভাবে একটন চালের মূল্য ধরা হয়েছে ৪৯ হাজার টাকা। এ হিসেবে ৩০ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চালের মূল্য দাঁড়ায় ১৪ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা।

সরেজমিনে এসব প্রকল্প ঘুরে দৃশ্যমান কোনো কাজ পাওয়া যায়নি। দু’এক জায়গায় সামান্য মাটি ফেলে পুরো কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে।

চকগৌরী ব্রিজ হতে আতাউরের বাগান অভিমুখে রাস্তায় কোনো কাজ করা হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় চকগৌরী গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে একদিন সামান্য কাজ করা হয়েছে।

এভাবে সরকারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করা হচ্ছে। অবহেলিত থাকছে গ্রামীণ জনপদের রাস্তাগুলো।

বনগ্রাম দুলালের বাড়ি হতে আতাউরের পাইকড়ের গাছ পর্যন্ত রাস্তার প্রকল্প সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমাকে নাম মাত্র প্রকল্প সভাপতি বানানো হয়েছে।

প্রকল্পের যাবতীয় দেখভাল করেন ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবু এবং মেম্বার মনসুর রহমান। কত টনের কী প্রকল্প সেটাও আমাদের জানতে দেওয়া হয় না। শুধুমাত্র প্রকল্পের কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে ৫ হাজার টাকা করে হাতে ধরিয়ে দেন।’

আরেক প্রকল্পের সভাপতি তানজিলা খাতুন বলেন, ‘ প্রকল্পের বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। যা করেন মনসুর মেম্বার করেন। মনসুর মেম্বারের সঙ্গে কথা বললেই সবকিছু জানতে পারবেন।’

সাংবাদিক পরিচয়ে এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মনসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাই উপজেলায় গেলে বিস্তারিত কথা হবে। এখন ব্যস্ত আছি বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলামকে অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সেটি রিসিভ হয়নি।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর