দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

আপডেট: January 11, 2026 |
babor 2 10
print news

মুসলিম আইন অনুযায়ী পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে আইনত বৈধ হলেও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ ও নৈতিকতার প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। এবার স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ের পক্ষে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি নয়, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

এতদিন ধরে প্রচলিত ধারণা ছিল, স্ত্রী বা প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। তবে আদালত বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি এমন কোনো বাধ্যবাধকতার উল্লেখ নেই।

২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির ক্ষমতা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত থাকায় স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল।

পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর মাধ্যমে নারীর ক্ষেত্রে ওই সাজা বহাল থাকলেও পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সে ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তাঁরা রিট করেছিলেন বলে জানান।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আর্থিক সক্ষমতা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রলোভন থেকে অনেক পুরুষ একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহার করতে পারেন। এতে সমাজে অসাম্য ও পারিবারিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিষয়টি আপিল বিভাগে গেলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হতে পারে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর