সাংবাদিক শ্যামল দত্তের ১৮ ও মোজাম্মেল ‎বাবুর ১১ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

আপডেট: February 9, 2026 |
inbound5283372414887073291
print news

দুর্নীতির তদন্ত চলমান থাকায় ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও তার স্ত্রী-কন্যার নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১৮ হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে আদালত।

এছাড়া একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং তার স্ত্রী-কন্যার নামেও বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১১ হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে আদালত।

দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

শ্যামল দত্তসহ তার স্ত্রী সঞ্চিতা দত্ত ও কন্যা সুষমা শশী দত্তের নামে থাকা ১৮টি হিসাবে ৫ কোটি ৩২ লাখ ১৯ হাজার ৬৫ টাকা রয়েছে।

আর মোজাম্মেল হক বাবু, তার স্ত্রী অপরাজিতা হক ও মেয়ে শাবাবা ইশায়াত হকের ব্যাংক হিসাবে ৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এসব তথ্য জানান।

দুদকের পক্ষে সংস্থার উপ-পরিচালক বায়োজিদুর রহমান খান পরিবারের সদস্যসহ দুই সাংবাদিকের নামে থাকা এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন।

শ্যামল দত্তের বিরুদ্ধে আবেদনে বলা হয়, “শ্যামল দত্ত, তার স্ত্রী সঞ্চিতা দত্ত ও কন্যা সুষমা শশী দত্তের নামে বেশ কিছু অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে এসব অস্থাবর সম্পদ অর্জনের স্বপক্ষে কোনো সুস্পষ্ট উৎস পাওয়া যায়নি। এছাড়া এসব সম্পদ নানাভাবে হস্তান্তর বা স্থানান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত উৎস আড়াল করার চেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে যা অর্থ পাচার অপরাধ মর্মে সামনে এসেছে।”

আর মোজাম্মেল হক বাবুর বিরুদ্ধে আবেদনে বলা হয়, “মোজাম্মেল হক বাবু, তার স্ত্রী-মেয়ে ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে বেশ কিছু অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে এসব অস্থাবর সম্পদ অর্জনের স্বপক্ষে কোনো সুস্পষ্ট উৎস পাওয়া যায়নি। এছাড়া সম্পদসমূহ নানাভাবে হস্তান্তর/স্থানান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত উৎস আড়াল করার চেষ্টা নেওয়া হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং জনিত অপরাধ মর্মে অনুসন্ধানকালে প্রতীয়মান হয়েছে।”

দুদক মনে করছে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দুই সাংবাদিক এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে অর্জিত এসব সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর অথবা দলিল সম্পাদন বা অন্য কোনো উপায়ে মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তরের সম্ভবনা রয়েছে।

সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে দুদকের উপ-পরিচালক বায়োজিদুর রহমান খান আবেদনে জানিয়েছেন।

চব্বিশের অভ্যুত্থানে ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া হয়ে সপরিবারে ভারতে যাওয়ার সময় শ্যামল দত্তকে আটকে দিয়েছিল ইমিগ্রেশন পুলিশ। আর মোজাম্মেল বাবু সরকার পতনের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন।

ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালানোর সময় শ্যামল দ্ত্ত এবং মোজাম্মেল বাবুকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন। বিভিন্ন মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয় রিমান্ডেও।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর