বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন ও রকেট হামলা

আপডেট: March 17, 2026 |
inbound8804179993725293270
print news

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে আরেকটি হামলায় একটি বাড়িতে চার জন নিহত হয়েছেন। ওই বাড়িতে ইরানের উপদেষ্টারা অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই বাড়িটিতে হামলার ফলে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরাককে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে ফেলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, দূতাবাস চত্বরে একটি বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়া দেখা গেছে এবং এ সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরেকটি ড্রোনকে প্রতিহত সক্ষম হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোন এলাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে রকেট হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

একই সময়ে একটি ড্রোন হামলার ফলে ওই এলাকার একটি বিলাসবহুল হোটেলে আগুন লাগে। হোটেলটি সাধারণত বিদেশি কূটনীতিকদের যাতায়াতের জন্য পরিচিত।

ইরাক দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রক্সি বা পরোক্ষ সংঘাতের একটি যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশটি আরও সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।

ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরাক ও আশপাশের অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ওপর প্রায় প্রতিদিনই হামলার দাবি করে আসছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা ও অন্যান্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সংঘাতের প্রভাব ইরাকের ভেতরে আরও গভীর হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এদিকে আজ মঙ্গলবার ভোরে বাগদাদের একটি বাড়িতে হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুই জন তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ‘ইরানি উপদেষ্টা’ ছিলেন বলে এএফপিকে একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।

ইরান-সমর্থিত একটি গোষ্ঠীর আরেকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আল-জাদিরিয়াহ এলাকায় ইরানি উপদেষ্টাদের আশ্রয় দেওয়া একটি বাড়িতে হামলায় চার জন নিহত হয়েছেন।

তেহরান-সমর্থিত শক্তিশালী কাতায়েব হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী তাদের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কমান্ডার আবু আলী আল-আসকারিকে হত্যার ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে, তবে তার মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রথমে জানিয়েছিল যে বাগদাদের অত্যন্ত সুরক্ষিত গ্রিন জোনে অবস্থিত বিলাসবহুল আল-রশিদ হোটেলের ছাদে একটি ‘ক্ষেপণাস্ত্র’ পড়েছে।

পরে তারা স্পষ্ট করে জানায় যে এটি একটি ড্রোন ছিল। ভবনটিকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছিল কি না, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বা কোনো বস্তুগত ক্ষতি হয়নি।’

এএফপি’র এক সংবাদদাতার জানান, মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের আবাসস্থল হোটেলটির দিকে যাওয়ার একটি রাস্তা ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে দমকল কর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স উপস্থিত ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা হোটেলটির ছাদে আগুন লাগতে দেখেছেন।

এএফপি’র এক সাংবাদিক জানান, হোটেলের ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই বাগদাদে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং একই সঙ্গে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মার্কিন দূতাবাসের ওপর একটি হামলা প্রতিহত করতে দেখা যায়।

একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দূতাবাসের ওপর চারটি রকেটের একটি হামলা ব্যর্থ করে দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি এই হামলাগুলোর নিন্দা জানিয়েছেন। আল-সুদানি একই সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানও। এর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের একটি তেলক্ষেত্রেও আঘাতের ঘটনা রয়েছে। তিনি এই হামলাগুলোকে তার দেশের ‘নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার’ প্রতি বড় ধরনের হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তার মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান জানিয়েছেন, ‘তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে নিরাপত্তা বাহিনী ‘এই কর্মকাণ্ডের দায়ীদের খুঁজে বের করবে ও আইনের আওতায় আনবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আমাদের দেশের জন্য গুরুতর পরিণতি বয়ে এনেছে এবং পুনর্গঠন ও সমৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দেয়।’

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর