যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম

আপডেট: July 7, 2026 |
print news

বেলজিয়ামের বিখ্যাত ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ এখন অতীত। তবে সেই সোনালি সময়কেই যেন মনে করিয়ে দিল এই দল। প্রথমার্ধে দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়ে এবং দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য ধরে রেখে বড় জয় তুলে নিয়েছে তারা। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে থাকা স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের দলটি।

সিয়াটল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের হয়ে প্রথমার্ধে জোড়া গোল করেন শার্ল ডি কেটেলারে। দ্বিতীয়ার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্যবধান বাড়ান হন্স ফানাকে। যোগ করা সময়ে চতুর্থ গোলটি করেন অভিজ্ঞ রোমেলু লুকাকু। স্বাগতিকদের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মালিক টিলম্যান।

ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফোলারিন বালোগন। ডনাল্ড ট্রাম্পের ফোন পাওয়ার পর তার লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ায় ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে ম্যাচে তিনি তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। বরং ম্যাচপূর্ব ঘটনাপ্রবাহ যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলারদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে হয়েছে। আগের ম্যাচগুলোর মতো গতিময় ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে পারেনি স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। অষ্টম মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় বেলজিয়াম। ডান দিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে বক্সে নিখুঁত বল পেলেও ইউরি টিলেমান্স পায়ের পাশ দিয়ে নেওয়া শট বাইরে মেরে দেন।

তবে পরের মিনিটেই এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। বক্সের ভেতরে উঁচু বল নিয়ন্ত্রণে এনে নিকোলা হাসকিন ডান পাশে থাকা শার্ল ডি কেটেলারের উদ্দেশে পাস বাড়ান। ফাঁকায় থাকা ফরোয়ার্ড সহজেই বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন।

গোলের পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে বেলজিয়াম। ১৪তম মিনিটে লেয়ান্দ্রো ট্রোসাডের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। প্রথম পানি পানের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিল বেলজিয়ামের হাতেই।

তবে আচমকাই সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া শট বেলজিয়ামের মানবদেয়ালে হন্স ফানাকের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। গোলরক্ষক তিবো কোর্তোয়া সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে পড়েন। গোটা স্টেডিয়াম তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে।

তবে সেই উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোল হজমের পরপরই পাল্টা আক্রমণে ওঠে বেলজিয়াম। বক্সে ট্রোসাডের দারুণ ক্রস থেকে কাছাকাছি জায়গা থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন শার্ল ডি কেটেলারে। ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের সবশেষ নয় ম্যাচে এটি ষষ্ঠ গোল।

৪০তম মিনিটে নিশ্চিত আরেকটি গোল বাঁচান যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ। কর্নার থেকে ইউরি টিলেমান্সের নিচু ক্রসে নিকোলা হাসকিনের কাছ থেকে নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় আটকে দেন তিনি।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ফোলারিন বালোগনের জোরালো শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বলের দখল কিছুটা বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই আধিপত্য কাজে লাগাতে পারেনি তারা। বরং নিজেদের ভুলেই তৃতীয় গোল হজম করে স্বাগতিকরা।

৫৭তম মিনিটে বক্সে আসা একটি লম্বা বল নিয়ন্ত্রণে আনেন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে চাপ দিয়ে বল কেড়ে নেন শার্ল ডি কেটেলারে। তিনি বল বাড়িয়ে দেন হন্স ফানাকের কাছে। সেখান থেকে বাঁকানো শটে ডান কোণ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন ফানাকে।

শেষ দিকে যোগ করা সময়ে রোমেলু লুকাকু গোল করে বেলজিয়ামের বড় জয় নিশ্চিত করেন। ৪-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নেয় ইউরোপের দলটি। অন্যদিকে দেশের মাটিতে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর