শাহজাদপুরে যমুনার ভাঙনে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন 

আপডেট: August 16, 2026 |
print news

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যমুনা নদীর ভাঙন। নদীর অব্যাহত আগ্রাসনে উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরসি ও ধীতপুরসহ কয়েকটি গ্রামের দুই শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

একই সঙ্গে শত শত বিঘা আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বাজারও ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন তীব্র হলেও তা ঠেকাতে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ বা জিওটিউব ফেলে নদীভাঙন রোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বর্ষার শুরু থেকে সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, ধীতপুর, কুরসি ও বারপাখিয়া গ্রামে ভাঙন শুরু হয়। গত তিন মাসে নদীর গর্ভে চলে গেছে দুই শতাধিক বসতঘর ও প্রায় দুই হাজার বিঘা আবাদি জমি।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকরা। জমিগুলোতে ধান, পাট, সরিষা, বাদাম, তিল, কাউন, গম, ভুট্টা ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হতো।

এ ছাড়া নদীভাঙনে দুটি মসজিদ, দুটি মাদরাসা, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়েছে। ধীতপুর-কুরসি হাট-বাজারও নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় কৃষিপণ্য ও গবাদিপশু কেনাবেচায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা।

ভাঙনের তীব্রতায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পায়নি। ফলে ভিটেমাটি হারানোর পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা ওয়াসিম আকরাম বলেন, সোনাতনী ইউনিয়ন চরাঞ্চল হওয়ায় এখানে প্রায়ই নদীভাঙন দেখা দেয়। তবে গত কয়েক মাসে ভাঙনের তীব্রতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পুরো ইউনিয়নই নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ধীতপুর ঘোনাপাড়া গ্রামের হাফিজ উদ্দিন, নুরুল ইসলাম ও জিন্নাহ মণ্ডল বলেন, এলাকাটি রক্ষায় দ্রুত বালুভর্তি জিওটিউব বা জিওব্যাগ ফেলা প্রয়োজন।

তাদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই তারা এ ব্যাপারে সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর