গাছ কাটার নির্মমতায় ধ্বংস পাখির বাসা-ছানা, শেষমেশ গ্রেপ্তার আসামি!

আপডেট: August 16, 2026 |
fd 151
print news

বগুড়ার শেরপুরে গাছ কেটে কয়েক শ’ পরিযায়ী শামুকখোল পাখির বাসা, ডিম ও ছানা ধ্বংস করার মামলায় অভিযুক্ত আজাহার আলীকে (৬৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রামনগর এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আজাহার বাড়ির দেয়াল টপকে পাশের জঙ্গলে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে ধাওয়া করে জঙ্গল থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আজাহার আলী সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমির জলপাই ও পিতরাজের সাতটি বড় গাছ কেটে ফেলেন। ওই গাছগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকশো শামুকখোল পাখি বসবাস ও প্রজনন করে আসছিল। গাছ কেটে ফেলার কারণে শত শত পাখির বাসা মাটিতে পড়ে বিপুল পরিমাণ ডিম ভেঙে যায় এবং অসংখ্য ছানা মারা যায়।

নৃশংস এই ঘটনার পর বন বিভাগের শেরপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন পারভেজ বাদী হয়ে শেরপুর থানায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করেন।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গাছ কেটে পাখির বাসা ও ডিম ধ্বংসের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আলামত হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ডিমের খোসা ও ছানার অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধে যুক্ত থাকার প্রমাণ মেলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থা’র সভাপতি সোহাগ রায় জানান, ২০১৪ সাল থেকে রামনগর গ্রামটিতে পরিযায়ী শামুকখোলসহ নানা প্রজাতির পাখি নিয়মিত আশ্রয় নিত। ফলে এলাকাটি স্থানীয়ভাবে ‘পাখি কলোনি’ হিসেবে পরিচিতি পায়। গত ৮ আগস্ট গাছ কাটার ঘটনাটি ঘটলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর পর পরই বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন সক্রিয় হয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর