পরকীয়া জুটি হোটেলে, ফ্যানে ঝুলছে প্রেমিকের দেহ খাটে বসে প্রেমিকা

রাতে প্রেমিকাকে নিয়ে হোটেলে গিয়েছিলেন এক যুবক। সেখানে সকালে ফ্যানে ঝুলছে প্রেমিকের মরদেহ। আর নিচে খাটের উপর নির্লিপ্তভাবে বসে রয়েছেন প্রেমিকা। এই ঘটনায় বেঁধেছে রহস্যের জাল। ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিঘার এক হোটেলের।

ভারতীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, হোটেলের ওই ঘরে সঙ্গীর ঝুলন্ত দেহ সারা রাত তিনি ও ভাবেই কাটিয়েছেন বলে হোটেলকর্মী এবং পুলিশের কাছে দাবি করেছেন। নিহতের নাম রাম উপাধ্যায়। তিনি হুগলির বাসিন্দা। অন্যদিকে নিহতের সঙ্গীনির নাম মালা ঘোষ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ মালাকে আটক করেছে জিজ্ঞাসাবদের জন্য।

পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলাও দায়ের করেছে। যদিও রাম যে দিঘায় গিয়েছেন, তা কোনওভাবেই জানতেন না তার স্ত্রী। এমনকি রামের জীবনে মালার অস্তিত্ব সম্পর্কেও তার কোনও ধারণা ছিল না বলেও জানিয়েছেন নিহত রামের স্ত্রী।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রোববার (১৭ এপ্রিল) নিউ দিঘার একটি হোটেলে এসে উঠেছিলেন হুগলির ডানকুনি পুরসভার হিমনগরের বাসিন্দা বছর তেতাল্লিশের রাম। সঙ্গে ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের ন’পাড়ায় বাসিন্দা বছর ছাব্বিশের মালা। তারা লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার সকালে মালার ডাকাডাকিতে হোটেলকর্মীরা ঘরে এসে রামের ঝুলন্ত দেহ দেখেন। তারাই পুলিশে খবর দেন। এর পর পুলিশ এসে রামের দেহ উদ্ধার করে। মালাকেও আটক করে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ।

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, মালা দাবি করেছেন, রাতে মদ্যপ অবস্থায় হঠাৎই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন তার ‘প্রেমিক’। মালা বাধা দিতে গেলে তার উপর উপর চড়াও হয়ে মারধর করেন। এরপর মালা বারান্দায় চলে যান। সেই সময়েই রাম আবার গলায় ফাঁস দেন এবং সিলিং থেকে ঝুলে পড়েন বলে মালার দাবি।

পুলিশকে মালা বলেন, আমরা লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলাম। গতকাল (রবিবার) আমরা দিঘায় বেড়াতে এসেছিলাম। তারপরেই এই ঘটনা। আমিই সকালে সকলকে এই ঘটনা জানিয়েছি। এর পর মালা সম্পর্কে খোঁজখবর করা শুরু করেন তদন্তকারীরা। জানা যায়, মালা পেশায় পানশালার নর্তকী।

রামের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। জানা যায়, তাঁর আসল বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। বছর দশেক আগে এ রাজ্যে এসে ডানকুনিতে থাকা শুরু করেন। বাড়িতে স্ত্রী অনিতা উপাধ্যায় ও তিন সন্তান রয়েছে। পরিবহণ সংক্রান্ত ব্যবসা ছিল রামের।

স্ত্রী অনিতা বলেন, হলদিয়ায় কাজ আছে বলে রবিবার ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ও। রাতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বিকেলের দিকে আমাকে ফোন করে বলে, গাড়ি খারাপ হয়ে গিয়েছে। রাতে আর বাড়ি ফেরেনি।

পরে সকালে স্বামী বাড়ি না ফেরায় তিনি সকালে ফোন করেন। কিন্তু রামের মোবাইল ধরেন এক মহিলা। তিনি নিজেকে মালা পরিচয় দিয়ে অনিতাকে জানান, রাম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

বৈশাখী নিউজ/ এপি