৮ বিভাগে প্রতিবন্ধীদের স্থায়ী আবাসন দেবে সরকার : স্পিকার

প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য সরকার দেশের আটটি বিভাগে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অটিজম বিষয়ে ব্যাপক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ট্রাস্টের মাধ্যমে তাদের ডরমেটরি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ, ২০১০ সালে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ক্যাম্পাসে অটিজম রিসোর্স সেন্টারের কার্যক্রম শুরু, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও শিক্ষাসেবা প্রদান এবং সুবর্ণা ভবন স্থাপন ইত্যাদি নানাবিধ কার্যক্রম চলমান।

আজ রবিবার (২৪ এপ্রিল) সূচনা ফাউন্ডেশন এবং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) যৌথভাবে আয়োজিত স্টিফেন মার্ক শোর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ বিয়ন্ড দ্য ওয়াল-এর বাংলা অনুবাদ “প্রাচীর পেরিয়ে”র মোড়ক উন্মোচনের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও সিআরআই-এর ভাইস চেয়ারপারসন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য, অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ এবং এডেলফি ইউনিভার্সিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর স্টিফেন শোর প্যানেল ডিসকাশনে আলোচনা করেন। এসময় বইটি অনুবাদের উদ্যোগ নেওয়ায় সায়মা ওয়াজেদকে ধন্যবাদ জানান স্পিকার।

স্পিকার বলেন, সূচনা ফাউন্ডেশন স্নায়ুবিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিকভাবে পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে অগ্রসর করার জন্য কাজ করে থাকে। প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন ব্যক্তির প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপে কাজ করছে এ ফাউন্ডেশন। প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন মানুষ যেন নিজের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সবার সহযোগিতায় অর্থবহ ও মানসম্পন্ন জীবন গড়ে তুলতে পারে সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সফলভাবে কাজ করছে। ‘প্রাচীর পেরিয়ে’ গ্রন্থটি এক্ষেত্রে সবার মাঝে সচেতনতা তৈরিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

স্পিকার বলেন, প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অর্থবহ জীবন কীভাবে গড়ে তোলা যায়, এরই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রফেসর শোর। মনোবিজ্ঞানী সায়মা ওয়াজেদের নেতৃত্বে সূচনা ফাউন্ডেশন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য অভিনব, কার্যকরী কর্মসূচি ও নীতি প্রণয়নে কাজ করার পাশাপাশি জাতিসংঘে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রেজুলেশন গৃহীত হয়েছে। সায়মা ওয়াজেদ অটিজম ডিজঅর্ডার বিষয়ে সচেতনতা ও সংবেদনশীলতা গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন। এ বিষয়ে তিনি অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছেন। সূচনা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক একাধিক রেজুলেশন গৃহীত হয়েছে, যা এদেশের জন্য গৌরবের।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আইনি কাঠামোর আওতায় প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন ব্যক্তির অধিকার সংরক্ষণের জন্য ‘নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩’ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন ও কল্যাণে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়েছে। ‘নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের বিধিমালা, ২০১৪’ এবং ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা বিধিমালা, ২০১৪’ প্রণয়ন করা হয়েছে। একটি নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টি বোর্ডও গঠন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।

অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান স্পিকার।

ড. হেলাল উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গেস্ট স্পিকার হিসেবে জেইন পিয়ার্স, আদিবা ইবনাত পশলা ও নিগার রহমান বক্তব্য দেন।

বৈশাখী নিউজ/ ইডি