ন্যাটো রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে গেছে : ল্যাভরভ

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান চলমান রয়েছে। ফলে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে মস্কোর উত্তেজনা কমেনি। এই প্রেক্ষিতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইউক্রেনে পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহের অর্থ হচ্ছে সামরিক জোট ন্যাটো ‘রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে গেছে’। সোমবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এই অস্ত্রগুলো বিশেষ অভিযানের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।’

সোমবার (২৫ এপ্রিল) প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আলজাজিরা।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ আরও বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো রাশিয়ার সঙ্গে এক অর্থে যুদ্ধে লিপ্ত। তারা (রাশিয়ার বিরুদ্ধে) ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং অস্ত্র সরবরাহ করে যাচ্ছে। যুদ্ধ মানে যুদ্ধই।’

এদিকে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের জেরে পারমাণবিক সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কার কথা স্বীকার করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। অবশ্য আশঙ্কার পরই শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা সম্পর্কেও আশার বাণী উচ্চারণ করেছেন তিনি।

সোমবার রাশিয়ার ফার্স্ট চ্যানেলের সাথে কথা বলার সময় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক সংঘাতের যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। তবে কৃত্রিমভাবে বাড়ানো এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে চায় মস্কো। এটিই আমাদের মূল অবস্থান যার ওপর ভিত্তি করে আমরা কাজ করছি। (পারমাণবিক সংঘাতের) ঝুঁকি এখন যথেষ্ট।

ল্যাভরভ আরও বলেন, ‘আমি কৃত্রিমভাবে সেই ঝুঁকিগুলো বাড়াতে চাই না। তবে অনেকেই এটি চাইবেন। (পারমাণবিক সংঘাতের) বিপদটি গুরুতর, বাস্তব এবং আমাদের অবশ্যই এটিকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।’

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে আলোচনার ‘ভান’ করার অভিযোগ তুলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একইসঙ্গে জেলেনস্কিকে ‘একজন ভালো অভিনেতা’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

রাশিয়ার এই শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, ‘তিনি (জেলেনস্কি) যা বলছেন তা আপনি যদি মনোযোগ সহকারে দেখেন এবং মনোযোগ সহকারে পড়েন, তাহলে তার কথার মধ্যে আপনি হাজারও বৈপরীত্য খুঁজে পাবেন।’

সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, চুক্তি স্বাক্ষর হলে ইউক্রেন সংকটের অবসান ঘটবে ঠিকই তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয় সামরিক অভিযানের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হবে।

বৈশাখী নিউজ/ ইডি