সঙ্গীতশিল্পী মাকসুদুল হকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি মামলা

‘কেন এলে না (রাধা)’ শিরোনামের একটি গানকে কেন্দ্র করে ঢাকা ব্যান্ডের ভোকালিস্ট সঙ্গীতশিল্পী মাকসুদুল হকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলা দায়ের করেছেন গানটির গীতিকার ও সুরকার আল মাসুদ নয়ন ওরফে নয়ন রাজা।

গত ২৫ এপ্রিল ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলার আবেদনটি আমলে নিয়ে (মামলা নম্বর-২২৭/২০২২) রাজধানীর পল্লবী থানা পুলিশকে মামলার তদন্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন।

একই মামলায় গানটির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এটিএন মিউজিকের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানকেও বিবাদী করা হয়েছে।

মামলা প্রসঙ্গে বাদী জানিয়েছেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী একটি গানের গীতিকার ও সুরকার হিসেবে যে রয়্যালটি প্রাপ্যতার বিধান রয়েছে তার এক কানাকড়িও বিবাদীরা দেননি। ২০০৯ সালের দিকে মাকসুদের ‘মা আরেফতের পতাকা’ অ্যালবামে ‘কাঁদে কৃষ্ণ মন’ শিরোনামে গানটি প্রকাশ হয়।

এরপর বিভিন্ন টেলিভিশন মিডিয়া এবং কনসার্টে মাকসুদের কণ্ঠে গানটি প্রচার হলে তা ছড়িয়ে পরে। পরে বিভিন্ন শিল্পীরাও গানটি গেয়ে স্যোশ্যাল মিডিয়া তথা ইউটিউব এবং ফেসবুকে আপলোড করে প্রচার করতে শুরু হরে।

অথচ মেধাস্বত্ব আইন অনুযায়ী একটি সংগীতের স্বত্বাধিকারীর কাছ থেকে তার লিখিত সম্পতিপত্র নেওয়া একান্ত প্রয়োজন; যা বিবাদীরা করেননি। একই কারণে বর্তমানে অন্যান্য শিল্পীরাও এর কোনো প্রয়োজন অনুধাবন করছে না। মাকসুদের ‘মা আরেফতের পতাকা’ অ্যালবামে ‘কাঁদে কৃষ্ণ মন’ বা ‘কেন এলে না’ বা ‘রাধা’ গানটি এবং ‘মন নদী’ গানটির গীতকার ও সুরকারের নামের ক্ষেত্রে ‘নয়ন রাজা’নামটি ব্যবহার করা হলেও তাকে কোনোরূপ রয়্যালটি বা অর্থ প্রদান করেনি শিল্পী ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।

মামলার বিবরণে আরও জানা যায়, ২০২১ সালের দিকে ‘কেন এলে না (রাধা)’ গানটির সর্বস্বত্ব বা কপিরাইটের আবেদন করেন গানটির গীতিকার ও সুরকার নয়ন রাজা। বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস উচ্চতর এবং অধিকতর তদন্ত শেষে গানটির নয়ন রাজাকে কপিরাইট প্রদান করে।

তারই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নয়ন রাজা এটিএন মিউজিক ও শিল্পী মাকসুদকে ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিশ পাঠায়।

এটিএন মিউজিক কর্তৃপক্ষ অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখে আইনি নোটিশের জবাব দিলেও মাকুসদ আইনি নোটিশ গ্রহণ করেননি।

এটিএন মিউজিকের প্রেরিত আইনি নোটিশের জবাব মামলার বাদী বরাবরে পাঠানো হলেও, সেখানে কোনো প্রকার রয়্যালটি বা অর্থ প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি, বরং বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গানটির গীতিকার ও সুরকার নয়ন রাজা বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নেন এবং একটি প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গানটির গীতিকার ও সুরকার নয়ন রাজা বলেন, গানটি আমি লিখেছিলাম ছাত্রজীবনে ২০০১-০২ সালের দিকে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন মানুষের সামনে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গানটি পরিবেশন করতাম। সেই থেকেই গানটি ধীরে ধীরেহাতছাড়া হয়ে যায়। এছাড়া ২০০১-০২ সালের দিকে গানটি গাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে জমি বিক্রি (বন্ধক) করে টাকা এনে গড়ে তুলি গায়েন ব্যান্ড।

ব্যান্ডের দায়িত্ব অন্য একজনের হাতে থাকার কারণে তখনো গানটি বেহাত হয়ে যায়। এমনকি আমার লেখা এবং সুর করা ‘কেন এলে না (রাধা)’সহ বেশ কিছু গানে তার নাম পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

নয়ন রাজা আরও বলেন, এদিকে গানটি বিভিন্নজনের কণ্ঠে বিভিন্ন টেলিভিশনে এবং ইউটিউবে ব্যাপক সাড়া ফেলে। কেউ কেউ গীতিকার এবং সুরকার হিসেবে আমার ছদ্মনাম অর্থাৎ নয়ন রাজা ব্যবহার করলেও অনেকেই নামটিও ব্যাবহার করেননি। আর লিখিত অনুমতি নেওয়া তো দূরের কথা মৌখিকভাবেও কেউ আমার কোনো অনুমতি নেয়নি। এ বিষয়ে আমার সাথে কেউ কোনোদিন যোগাযোগ পর্যন্তও করেননি।

এদিকে মামলার বিষয়ে শিল্পী মাকসুদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।

বৈশাখী নিউজ/ ইডি