প্র‌তিবন্ধকতা আস‌লেও গণত‌ন্ত্রের লড়াই বন্ধ হ‌বেনা : ফখরুল

 
‌যত প্রতিবন্ধকতাই আসুক ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই বন্ধ হবে না’ ব‌লে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
 
বিকালে কল্যাণ পার্টির আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে বিএনপির মহাসচিব এই অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করেন।
 
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকে আজকে হতাশায় ভোগছেন। আমি মনে করি হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নাই। হতাশা কখনো আমাদেরকে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাবে না। আমাদের লক্ষ্য একটাই- গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা, অগনিত নেতা-কর্মী যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদেরকে মুক্ত করা এবং এই দুঃশাসন অবসান ঘটানো।’
 
‘‘ সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে বাঁধা-বিপত্তি আসবে, বাঁধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করে আমাদেরকে শিড়দাঁড়া সোজা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা পাখা বন্ধ করবো না। আমরা গণতন্ত্রের সংগ্রামের যেসব লড়াই, সেই লড়াই আমরা লড়ব। আমরা অবশ্যই কুলে গিয়ে পোঁছাতে পারবো, নিড়ে গিয়ে পৌঁছাতে পারবো।”
 
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ভবনের মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক কল্যাণ পার্টির পক্ষে দলটির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। এ‌তে আম‌ন্ত্রিত অ‌তি‌থি‌দের স্বাগত জানান দল‌টির মহাস‌চিব এমএম আ‌মিনুর রহমান।
 
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। গত এক দশক ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে অত্যন্ত সচেতনভাবে সুচতুরভাবে পরিকল্পিতভাবে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করবার জন্যে এখানে পরিকল্পনা মতো কাজ করেছে। তারা হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে, খুন করেছে, অনেককে গুম করে দিয়েছে।’
 
‘‘ আমাদের একটা হিসাবে দেখেছি যে, আমাদের সারা দেশে মামলার সংখ্যা প্রায় এক লক্ষ্যের উপরে। এই মামলায় আসামীর সংখ্যা প্রায় ২৫ লক্ষ এবং সেটা ঢাকা শহর থেকে শুরু করে একেবারেই সেই গ্রামের ওয়ার্ড লেভেল পর্যন্ত কোথাও বাকী নেই। যারাই বিরোধিতা করেছেন, বিরোধী দল করেছেন তাদেরকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে, গায়েবী মামলা দিয়ে আসামী করে হয়রানি, গ্রেপ্তার করে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে।”
 
একাদশ নির্বাচনেরে নামে প্রহসন করে আওয়ামী লীগ দেশে একটা ‘দখলদারী সরকার’ গঠন করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
 
তিনি বলেন, ‘যারা আজকে পার্লামেন্ট গঠন করেছেন তারা কেউ নির্বাচিত প্রতিনিধি বলে আমরা মনে করি না। জনগন তাদেরকে ভোট দিতে পারেননি। একইভাবে তাদের দ্বারা যে সরকার হয়েছে সেই সরকারও আমরা মনে করি যে, তারা জনগনের প্রতিনিধিত্ব করে না।’
 
‘‘যে কারনে আমরা আমাদের ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সম্মিলিত বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে এই সরকারকে কখনোই একটা লেজিটিমেট সরকার হিসেবে স্বীকার করেনি, এই পার্লামেন্ট হিসেবে স্বীকার করেনি। কিন্তু বাস্তবতা এই জগদ্দল পাথর আমাদের বুকের ওপর চেপে বসে আছে, বাস্তবতা এই সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগনের সব মৌলিক অধিকারগুলোকে কেড়ে নিয়েছে, গণতন্ত্রের সব স্তম্ভগুলোকে ভেঙে নিয়েছে।”
 
এই অবস্থার উত্তরনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব।
 
ইফতারের আগে দোয়া পরিচালনা করেন দলের সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।
 
পরে ইবরাহিম বিএনপি মহাসচিবসহ জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, এলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির তৈমুর আলম খন্দকার, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাগপার খোন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, স্থায়ী কমিটির সদস্য আজাদ মাহবুব, মো. ইলিয়াস, ফোরকান ইবরাহিম, ভাইস চেয়ারম্যান নুরউদ্দিন, সাহিদুর রহমান তামান্না, মাহমুদ খানসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে ইফতার করেন।