আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল: স্বাস্থ্য সচিব

আপডেট: March 31, 2026 |
inbound1823701145393377020
print news

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভেন্টিলেশনের অভাবে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, এখানে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। সেগুলোর ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, হামের যে প্রাদুর্ভাবের কথা বলা হচ্ছে, তা নিয়ে পত্রিকায় ৩৩ শিশুর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে।

তারা বলেছেন—ওই ৩৩ জনের সবাই হামে মারা যায়নি। অনেকেই অন্য জটিলতায় ভুগছিল। তবে প্রতিটি মৃত্যুকেই চিকিৎসার আওতায় আনা দরকার।

তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এটাকে সীমিত প্রাদুর্ভাব বলবো। এটা মোকাবিলায় ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

আমরা বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে মোকাবিলা করতে ইতোমধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ দল গতকাল সেখানে পাঠিয়েছি। তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।

তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে আমাদের টিকাদান কর্মসূচি প্রণয়নের জন্য একটি টেকনিক্যাল কমিটি রয়েছে। ওই কমিটিকে সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের এলাকাগুলো চিহ্নিত করে একটি কারিগরি পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে।

তারা ইতোমধ্যে সেই পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। শিগগির আমরা সচিবালয়ে বসে বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।

সচিব বলেন, আইডিসিআরকেও গবেষণা করে ব্যর্থতার কারণগুলো বের করতে বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জেনেছি—করোনাকালে ও পরবর্তী সময়ে কিছু এলাকায় টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। একদিকে স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি, অন্যদিকে টিকার সাময়িক সংকট—এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়।

অনেক মা একদিন এসে সেবা না পেয়ে পরে আর ফিরে আসেননি। ফলে কিছু এলাকায় টিকাদানে গ্যাপ তৈরি হয়। এ কারণেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে।

এখন আমরা একটি কৌশল নিয়েছি—ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে, যাতে সেখানে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তোলা যায়, যোগ করেন তিনি।

কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ঢাকা থেকে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় সাতটি ভেন্টিলেটর আনা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগুলো কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।

পাশাপাশি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত নয়, এমন শিশুদের আইসিইউ প্রয়োজন হলে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে পাঠানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানেও আইসিইউ সাপোর্ট পাওয়া যাবে।

এছাড়া রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ যেসব হাসপাতালে অবকাঠামো আছে, সেগুলো সচল করার উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা চলছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর