বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হাসপাতাল, ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা

জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ চলে গেলেই তৈরি হয় অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ। বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও স্বজনদের যেন দুর্ভোগের শেষ নেই।
হাসপাতালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় রোগীদের ওয়ার্ড অন্ধকার থাকলেও নিচ তলায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতার বন্ধ কার্যালয়ে বিনা প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থায় লাইট জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ যেখানে আলো দরকার সেখানেই অন্ধকার করে রাখা হয়েছে।
শনিবার রাতে এমনই চিত্র দেখা গেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের অন্ধকারেই থাকতে হচ্ছে।
হাসপাতালের বেডে এক রোগীর শরীরে রক্ত দেওয়া হচ্ছে, এ সময় ঠিক মতো রক্ত সঞ্চালন হচ্ছে কিনা তার মেয়ে মোবাইল ফোনের আলো দিয়ে বারবার পর্যবেক্ষন করছিলো।

একইভাবে নার্সদেরও মোবাইলের আলো ব্যবহার করে রোগীর রক্তচাপ মাপা ও ওষুধ দিতে দেখা গেছে। অতিরিক্ত গরমে রোগী ও স্বজনদের হাসফাস অবস্থা। রোগীদের হাত পাখা দিয়ে বাতাস করছেন তাদের স্বজনরা।
আলোর ব্যবস্থা না থাকায় বেড থেকে রোগী মেঝেতে পড়ে যাওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে। অথচ হাসপাতালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় রোগীদের ওয়ার্ড অন্ধকার থাকলেও নিচ তলায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতার বন্ধ কার্যালয়ে বিনা প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থায় লাইট জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা জেসমিন আক্তার নামে এক রোগী বলেন, আমি আমার বাচ্চাকে দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রেখেছি।
অতিরিক্ত গরম আর অন্ধকারে নাজেহাল অবস্থা। কারেন্ট চলে গেলে এই হাসপাতালটা যেন ভূতের হাসপাতাল মনে হয়।
চিকিৎসা নিতে আসা জেলাখা খাতুন নামে আরেক রোগী অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতালটি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ঠিক ভাবে চলাফেরা করা যায় না।
বাথরুম থেকে বিকট দুর্গন্ধ আসে। অন্ধকার পরিবেশে মশার উৎপাত বেড়ে যায়। এখানকার পরিবেশের এমন অবস্থা যে সুস্থ মানুষরাও অসুস্থ বোধ করছে।
রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় হাসপাতালের কার্যক্রম দিন দিন ভেঙে পড়ছে। চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।
এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। কর্তৃপক্ষ শুধু লুটপাটে ব্যস্ত। আশে পাশে আর চিকিৎসা কেন্দ্র নাই তাই বাধ্য হয়েই এখানে চিকিৎসা নিতে আসতে হয়।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ আবুল বাশার মোহাম্মদ সাইদুর জামান মুঠোফোনে জানান , আমাদের হাসপাতালের জেনরটর দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। আর আইপিএসের ব্যাটারির তেমন পাওয়ার নেই। আমরা বিদ্যুৎ অফিসের সাথে কথা বলে সমাধান করার চেষ্টা করব।
ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ও পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সমস্যার সমাধান হতে সময় লাগবে।
















