জুতাপেটার ঘটনায় নারী শিক্ষক আলিয়াকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে জুতাপেটার শিকার নারী শিক্ষক আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক মোহা. আসাদুজ্জামান রোববার দুপুরে কলেজ পরিদর্শন করে এ নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আলিয়া খাতুন ও কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাককে ঘটনার ব্যাপারে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলেজ পরিদর্শন শেষে মোহা. আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি কলেজে গিয়ে দেখেন, অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক ও আলিয়া খাতুন আসেননি। তাদের ফোনও বন্ধ। পরে বিকল্প উপায়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত আলিয়া খাতুন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার একজন শিক্ষক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুর্গাপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদন রোববারের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন এবং অধ্যক্ষ ও প্রদর্শক আলিয়া খাতুনের জমা দেওয়ার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দাওকান্দি সরকারি কলেজে গিয়েছিলেন একটি তাফসির মাহফিলের আয়োজকেরা। তারা বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী। সেখানে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আলিয়া খাতুন একজনকে থাপ্পড় মেরেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএনপির কর্মী শাহাদত আলী কলেজে গিয়ে আলিয়ার সঙ্গে বিতর্কে জড়ান।
আলিয়ার দাবি, তাকে আপত্তিকর একটি বাজে কথা বললে তিনি চড় মেরেছেন। পাল্টা শাহাদাত আলী তাকে জুতা খুলে নির্মমভাবে পিটিয়েছেন।
খবর পেয়ে শাহাদাত আলীর ছেলে লিটন ও কর্মচারী মাহবুব এসে দ্বিতীয় দফা অধ্যক্ষ ও নারী শিক্ষককে মারধর করেছেন। এরপর ৪০-৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মী গিয়ে তৃতীয় দফা কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুর এবং অধ্যক্ষ ও আলিয়া খাতুনকে মারধর করেন।
এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তিন সদস্যের এই কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মনজুরুল আলম সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৩ এপ্রিল রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কলেজের এক নারী শিক্ষককে লাঞ্ছনা করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ ওঠেছে।
এ ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিবকে (কলেজ-২ অধিশাখা) আহ্বায়ক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালককে (কলেজ-১, সরকারি কলেজ শাখা) সদস্য ও রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা ও আইসিটি) সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।














