শুভেন্দু অধিকারীকে জি এম কাদেরের অভিনন্দন

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেছেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সোমবার (১১ মে) ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের মাধ্যমে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
শুভেচ্ছা বার্তায় জি এম কাদের বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে এবং দুই বাংলার মানুষের মধ্যে শতাব্দীব্যাপী সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও মানবিক সম্পর্ক বিদ্যমান।
জাতীয় পার্টি সবসময় সীমান্তের উভয় পাশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিশ্বাস করে মন্তব্য করে তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর জনমুখী নেতৃত্ব দুই বাংলার মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে।
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গত শনিবার শপথ নিয়েছেন দলটির নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন দলটির আরও পাঁচ নেতা।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টি জিতে প্রথমবারের মতো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ৮০টি আসনে জিতে ভরাডুবি হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সংগ্রেসের।
জি এম কাদের শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর ঐতিহাসিক নির্বাচনী বিজয় এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই সাফল্য শুধু ভারতীয় জনতা পার্টির জন্য নয়, পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, দৃঢ়তা ও অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, শুভেন্দু অধিকারী এমন একটি রাজনৈতিক ও জনসেবামূলক ঐতিহ্যের ধারক, যা খুব কম রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে দেখা যায়। নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে বিধানসভায় ধারাবাহিক দায়িত্ব পালন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় শুভেন্দু অধিকারী একদিকে যেমন দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন, তেমনই তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্কও গড়ে তুলেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের এক শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া শুভেন্দু অধিকারী তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন কংগ্রেসের হাত ধরে। ১৯৯৫ সালে তিনি কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
১৯৯৮ সালে মমতা তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করার পর অধিকারী পরিবার তাতে যোগ দেয়। শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী তিনবারের বিধায়ক ছিলেন এবং ইউপিএ-২ সরকারের সময় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শুভেন্দু নিজেও ইউপিএ-১ এবং ইউপিএ-২ সরকারের সময় দুই মেয়াদে বিধায়ক নির্বাচিত হন।
২০০৭ সালে নন্দীগ্রামে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলনের সময় শুভেন্দুর রাজনৈতিক উত্থান ত্বরান্বিত হয়। মমতার পাশে থেকে ওই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তবে মতপার্থ্যকের কারণে ২০২০ সাল নাগাদ শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে যোগ দেন বিজেপিতে। এরপর ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের ‘হাই ভোল্টেজ’ লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর বিজেপির ভেতরে শুভেন্দুর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল।
পাঁচ বছর পর ৪ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শুভেন্দু জয়ী হয়েছেন ভবানীপুরে, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবথেকে নিরাপদ ‘রাজনৈতিক দুর্গ’ বলে বিবেচিত হত। শুভেন্দু তার দ্বিতীয় কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও তৃণমূলের প্রভাবশালী প্রার্থী পবিত্র করকে পরাজিত করেছেন।
রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান শুভেন্দুর প্রমংসা করতে গিয়ে জি এম কাদের বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর পিতা শিশির কুমার অধিকারী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের সংসদ সদস্য হিসেবে পূর্ব মেদিনীপুরের মানুষের জন্য জীবনব্যাপী কাজ করেছেন। কাঁথি পৌরসভা থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত বিস্তৃত সেই পারিবারিক জনসেবার ঐতিহ্য শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

















