দুর্নীতির মামলায় শাহজাদপুরের পিআইও সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট: May 21, 2026 |
inbound9207906085449148559
print news

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় কারাগারে থাকা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

গত ৭ মে মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত পত্রে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়েছিল।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে এক সংবাদে তা প্রকাশ পেলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় (ডিআরআরও) বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে।

বরখাস্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়, দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

মামলার বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং গত ৪ মে গ্রেপ্তারের দিন থেকে এই আদেশ কার্যকর বলে গণ্য হবে।

এর আগে গত ৩ মে রাতে পাবনায় নিজ বাড়ি থেকে দুদকের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। পরের দিন পাবনার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আবুল কালাম আজাদ তিন দফায় দীর্ঘ ১৪ বছর শাহজাদপুর উপজেলায় পিআইও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি পাবনার সুজানগর উপজেলার হাসামপুর গ্রামের শমসের আলীর ছেলে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

২০২৪ সালের ৮ মে তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ও ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নসহ তিনজনকে সম্পদের হিসাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই বছরের ৩ জুলাই তারা সম্পদের হিসাব জমা দেন।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে তাদের তিনজনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় পিআইও আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুনের বিরুদ্ধে স্বামীর অবৈধ অর্থে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকা মূল্যের সম্পদ ভোগ-দখলে রাখার প্রমাণ পায় দুদক, যা একই আইনের ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য।

এ ছাড়া ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বিরুদ্ধে বাবার অবৈধ ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের সম্পদ ভোগ-দখলের অভিযোগ আনা হয়।

অন্যদিকে, পিআইও আবুল কালাম আজাদের শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের নামেও অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পায় দুদক।

২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তাকে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করা হলে একই বছরের ৮ ডিসেম্বর তিনি সম্পদের হিসাব দাখিল করেন।

অনুসন্ধানে তার নামে ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার স্থাবর এবং ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ১৮২ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পায় দুদক।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে  আরেকটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে জামাল উদ্দিন ফকিরকে প্রধান এবং আবুল কালাম আজাদকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ বুধবার দুপুরে বলেন, বিষয়টি আমরা আগেই মৌখিকভাবে জেনেছিলাম। তবে অফিশিয়াল চিঠি আজই পেয়েছি।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর