ঘরে বসে বাড়ছে শিশুর ওজন

সময়: 9:46 am - April 19, 2020 | | পঠিত হয়েছে: 3 বার

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শিশুদের বাইরে যাওয়া বন্ধ। এ অবস্থায় পুরো পরিবার লম্বা সময় একসঙ্গে থাকায় কিছু মা-বাবা দেখছেন তাঁদের শিশু প্রতিদিন কত বেশি খায়। শিশুদের কেউ কেউ সারাক্ষণ খেয়েই চলেছে, যা শিশুর ওজন বাড়িয়ে তুলছে। বিষয়টিকে মোটেই স্বাস্থ্যকর বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা।

ঘরে বসে অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাওয়া কিশোর-কিশোরীদের ওজন নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

জার্মানির বাড ওয়েনহাউজেনের করসো ক্লিনিকের ‘ইটিং ডিস-অর্ডার’ রোগবিষয়ক বিশেষজ্ঞ থোমাস হুবার বলেন, মা-বাবা বাড়িতে অফিস করায় শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই বিরক্ত বোধ করে। মা-বাবারা শিশুদের শান্ত রাখার সহজ উপায় হিসেবে বেছে নেন পিত্জা, বার্গার বা এ ধরনের খাবার, যা ওজন বাড়ায়। করোনা সংকটে খাদ্যঘাটতির আশঙ্কায়ই যে শুধু  অনেকে অতিরিক্ত খাবার ঘরে রেখেছে তা নয়, অনেক বাড়িতে নানা ধরনের প্রচুর খাবার সব সময়ই মজুদ রাখা হয়। তবে শিশুরা কী খায় সেটা জরুরি নয়, খাবারের পরিমাণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

স্থূল শিশু-কিশোররা করোনা পরিস্থিতিতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শরীরচর্চা বা খেলাধুলা ছাড়া খাওয়া, টিভি দেখা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাভাবে সম্পৃক্ত থাকায় ওজন বাড়ার সুযোগ অনেকটাই বেশি থাকছে। টিভি বা  ল্যাপটপ দেখার সময় শিশুরা নেশার মতো কত চিপস, চকোলেটের প্যাকেট শেষ করছে বা কোক পান করছে তার হিসাবও নেই।

হুবারের মতে, অনেক পরিবার আছে, যারা কখনো তাদের শিশুদের অতিরিক্ত মোটা বা ওজনের ব্যাপারটি খেয়াল করেনি। এবার তারা বুঝতে পারলেও এর সমাধানের পথ তাদের জানা নেই। শিশুদের সামনে থেকে খাবার সরিয়ে রাখা কোনো ভালো সমাধান নয়, বরং সবাই মিলে আলোচনা করাই বেশি উপকারী। এ ক্ষেত্রে শিশুদের প্রফেশনাল থেরাপি প্রয়োজন বলে মনে করেন হুবার।

ওজন কমানোর জন্য ঘরের ভেতরেই শারীরিক পরিশ্রমের খেলাধুলা, শারীরিক অনুশীলন ও খাবার নিয়ন্ত্রণ করে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কথা বলছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

এই মুহূর্তে অতিরিক্ত মোটা কিশোর-কিশোরীদের ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে টেলিফোনে পরামর্শ দিচ্ছেন বার্লিনের একটি শিশু ক্লিনিকের সুজানা ভিগান্ড। তিনি বলেন, রান্না, খাওয়াদাওয়া বা গল্প করার মতো কাজগুলো মিলেমিশে করা উচিত। এসবই শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে ওজন কমাতে সহায়তা করতে পারে। যেসব পরিবারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো রুটিন বা নিয়ম-কানুন মানা হয় না, সেসব পরিবারের শিশুদের সমস্যা সব সময়ই বেশি হয়ে থাকে।

সূত্র : ডয়চে ভেলে।

বৈশাখী নিউজএপি

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর