যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যু ১ লাখ ৯ হাজার, আক্রান্ত ১৯ লাখের বেশি

করোনায় মৃত্যু উপত্যকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থামছেই না প্রকোপ। উল্টো সময় যত গড়াচ্ছে ভাইরাসটির ভয়াবহতার নতুন রূপ যেন দেখছে দেশটি। যার শিকার ১৯ লাখের বেশি মানুষ। আর এক তৃতীয়ংশের বেশি সুস্থ হয়ে ফিরলেও প্রাণহানি ১ লাখ ৯ হাজার ছাড়িয়েছে।

পূর্বের ন্যায় এখনও গড়ে বিশ হাজারের বেশি মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে প্রতিদিন। এ সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সম্প্রতি নিরাপত্তার বাহিনীর হাতে এক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার জের ধরে চলমান আন্দোলন। হাজার হাজার মার্কিনী বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় সংক্রমণ ব্যাপক বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী করোনায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৫৭৮ জন। এতে করে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ লাখ ১ হাজার ৭৮৩ ২০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে নতুন করে ১ হাজার ৮৩টি প্রাণ। যাতে মোট প্রাণহানি বেড়ে ১ লাখ ৯ হাজার ১৪২ জনে ঠেকেছে। আর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭০ জন।

এর মধ্যে শুধু নিউইয়র্কেই প্রাণহানি ৩০ হাজার ১৬৪ জনে পৌঁছেছে। যেখানে করোনার শিকার ৩ লাখ প্রায় ৮৩ হাজার মানুষ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউ জার্সিতে আক্রান্ত ১ লাখ সাড়ে ৬৩ ৭৭৪ জন। এর মধ্যে প্রাণ গেছে ১১ হাজার ৯০৬ জনের।

ইলিনয়সে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার ছুঁই ছুঁই। যেখানে প্রাণহানি ৫ হাজার ৬২১ জনে ঠেকেছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষের দেহ মিলেছে করোনার সংক্রমণ। প্রাণ গেছে সেখানে ৪ হাজার ৪২১ জনের।

সংক্রমণ ১ লাখ ১ হাজার ৫৯২ জনে পৌঁছেছে ম্যাসাসুয়েটসসে, যেখানে প্রাণহানিও ৭ হাজার ১৫২ জন। করোনা প্রায় ৭৮ হাজার মানুষের দেহে মিলেছে পেনসিলভেনিয়ায়। মৃত্যু হয়েছে সেখানে ৫ হাজার ৭৬৮ জনের।

এছাড়া, মিসিগান, ফ্লোরিডা ও ম্যারিল্যান্ডে বেড়েছে সংক্রমণ ও প্রাণহানি। এ তিন অঙ্গরাজ্যেই আক্রান্ত গড়ে ৬০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি মৃত্যু হয়েছে মিসিগানে। এরপরই ফ্লোরিডায় আড়াই হাজার ও ম্যারিল্যান্ডে ২ হাজার ৬৪১ জন।

দেশটিতে সবচেয়ে কম আক্রান্ত ও মৃত্যু ভার্জিন আইসল্যান্ডসে। যেখানে এখন পর্যন্ত ৭০ জনের দেহে মিলেছে করোনার সংক্রমণ। আর তাতে প্রাণ হারিয়েছেন মাত্র ৬ জন।

এমন অবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে লকডাউন তুলে নেয়ার চিন্তা করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ জন্য সব অঙ্গরাজ্যগুলোর গর্ভনরকে চাপ দিয়ে আসছেন তিনি।

গত সপ্তাহেই করোনারাঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পরই টালমাটাল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। স্থগিত হয়েছে জি-৭ সম্মেলন।

বৈশাখী নিউজজেপা