হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে আক্কেলপুরের মানুষ

আপডেট: January 14, 2024 |
inbound1060341116788890744
print news

দেব্রত মন্ডল, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে গত কয়েকদিন ধরে চলমান হাড়কাঁপানো তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা, শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ায় জবুথবু অবস্থায় কাঁপছে এই উপজেলার সাধারণ মানুষ।

তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় কনকনে শীতে কাবু হচ্ছে প্রাণীকুল। বিশেষ করে দিনের চেয়ে রাতের তাপমাত্রা আরো কমে আসছে।

এতে রাতে আরো বেশি শীত অনুভুত হচ্ছে। ঘন কুয়াশায় দেখা মেলছে না সূর্যের। ফলে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পাশাপাশি কমছে সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও।

প্রচুন্ড শীতের কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল, অসহায়, দিনমজুর, ভ্যান ও রিকশাচালক, শিশু এবং বয়স্ক মানুষ।

ঘন কুয়াশায় উত্তরের হিমেল হাওয়া শরীরে কাঁটা দিচ্ছে শীতার্ত মানুষের শরীরে। খরকুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।

যতই দিন যাচ্ছে তাপমাত্রার পারদের ওঠানামা ততই যেন বেসামাল হয়ে পড়ছে।

আক্কেলপুর উপজেলার পাশ্ববর্তী নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৩ জুনায়ারি) এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস আজ রবিবার (১৪ জুনায়ারি) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে গত পাঁচ দিনের হিমেল হাওয়া, শৈত্যপ্রবাহ ও ঘনকুয়াশার কারণে মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভাইরাস জনিত রোগ সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া। এবার শীতজনিত রোগ শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের পাশাপাশি সব বয়সের মানুষ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্হিবিভাগ ও জরুরী বিভাগে রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ যেমন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তেমনি বর্হিবিভাগেও চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশ শিশু। অপরদিকে, শীত বাড়ায় বেড়েছে গরম কাপড় কেনাকাটার ভিড়।

দোকানে বা ফুটপাত সবখানেই ক্রেতা সমাগম চোখে পড়ার মত।

গত এক সপ্তাহ আগেও গরম কাপড়ের দোকানদাররা ক্রেতা শূণ্য ছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহ থেকে শীতের তীব্রতা বাড়ায় কেনাকাটাও জমজমাট হয়ে উঠেছে।

এবার প্রতিটি কাপড়ের দাম বেশি হওয়ার কারণে নিম্ন বা মধ্যআয়ের মানুষ ফুটপাতে কেনাকাটা করছেন বেশি। তাই নিজের ও পরিবারের লোকজনদের জন্য সাধ্যমত ফুটপাত থেকে পোষাক কিনতে দেখা যাচ্ছে।

এছাড়াও শীত বাড়ায় ভোগান্তি বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের।

শীতের কারণে এসব লোকজন সকালে কাজে বের হতে পারছেন না।লোকজন সকালে কাজে না গিয়ে খড়কুঠো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

বিশেষ করে রাত ৮টার পর গ্রামের রাস্তাঘাটে থাকছে না কোনো যানবাহন ও মানুষজন। দিনেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল আলম বলেন, উপজেলায় এবার মাত্র ৩ হাজার কম্বল পেয়েছি যা চাহিদার তুলনায় অতি অপ্রতুল।

আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশন, উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের কোলা গুনিপুর, শহর রক্ষা বেড়ীবাঁধ এলাকাসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় এ পর্যন্ত ২২শ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

আমি আমার কার্যালয় হতে ছিন্নমূল, অসহায়, শীতার্ত, দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে আরও কম্বলের চাহিদা দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এনজিও, ব্যাংক অনান্য কোন সংস্থার এখনো কম্বল পাওয়া যায়নি। তবে খুব দ্রুত পাওয়া যেতে পারে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর